শরণখোলায় কে এই দূধর্ষ চেয়ারম্যান পারভেজ

শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২০

মেহেদী হাসান, শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে : বর্তমানে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যার ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা মৃতঃ আব্দুল হক ফরেষ্টারের ছেলে হাসানুজ্জামান পারভেজ।

এক সময় স্থানীয় আওয়ামী রাজনীতিতে সপৃক্ত হন। ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শরনখোলা উপজেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন সভাপতি কামাল উদ্দিন আকন ও বাগেরহাট -৪ আসনের প্রায়ত (এমপি) ডাঃ মোজাম্মেল হোসেনের সাথে ওই সময় রাজনৈতিক মতোবিরোধ দেখা দিলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) প্রার্থী হিসেবে সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনের ভাইপো হাসানুজ্জামান পারভেজকে কামাল উদ্দিন আকন তার প্যানেল ভুক্ত করেন। ওই নির্বাচনে পারভেজ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার পর থেকেই অনেকটা দাপট দেখাতে শুরু করেন তিনি। সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তারাও তার হাতে ইতিমধ্যে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত হয়েছেন।

এমনকি ২০১৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে তিনি কামাল গ্রুপে থেকে পুনরায় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে পারভেজ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা চলতি বছরের জানুয়ারীতে তার ছোট ভাই তারেকের অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে একটি খবর প্রকাশ করলে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পারভেজ শরনখোলা প্রেসক্লাবের সহ-সম্পাদক এবং দৈনিক সংবাদ ও সমাজের কথা পত্রিকার শরনখোলা প্রতিনিধি এমাদুল হক (শামীম) কে হত্যার হুমকি দেন এবং একই মাসে উপজেলা পরিষদ চত্তরে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সম্মুখে প্রকাশ্যে সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন এবং বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন তিনি।

এছাড়া সাউথখালী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে তাকে প্রধান অতিথি না করায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকে নিয়ে স্থানীয় তাফালবাড়ী বাজারে জন সম্মুখে শিক্ষকদের সাথে খারাপ অচারন করেন ওই ভাইস চেয়ারম্যান।

 

এবং ২০১৮ সালের শেষের দিকে শরনখোলা উপজেলা পরিষদ চত্তর এলাকায় শরনখোলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দৈনিক যুগান্তর ও পুর্বাঞ্চল পত্রিকার শরনখোলা প্রতিনিধি বাবুল দাসের সাথে অসাদাচারন করলে পরে তা আপোষ মিমংাশা করে নেয় পারভেজ। এছাড়া ২০১৫ সালে উপজেলার এক প্রকৌশলীকে মারপিট ও ২০১৭ সালে তাফালবাড়ী এলাকার একটি সরকারি পুকুরের মাছ লুট সহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে ৬টি মামলা বিচারাধীন আছে। উল্লেখ্য, ৯আগষ্ট সুন্দরবনের কটকা ষ্টেশনের আওতাধীন দুধমুখী নদীর বালির খাল এলাকার নদীতে জাল ফেলাকে কেন্দ্র করে উপজেলার সোনাতলা (মডেল বাজার) গ্রামের বাসিন্দা জেলে মামুন খান (৩২) কে নির্যাতন করেন ভাইস চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা। পরে সংঙ্গীয় জেলেরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্বার করে ১০ আগষ্ট সকালে শরনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ আগষ্ট ওই জেলেকে খুলনা মেডিক্যল কলেজ হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়। তবে, এ ব্যাপারে ১২আগষ্ট দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে লিখিত এক সংবদ সম্মেলনে ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজ তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ষড়যন্ত বলে দাবী করেন।

এছাড়া তার ছোট ভাই মৎস্য ব্যবসায়ী পলাশ মাহমুদ বলেন, জাল ফেলা নিয়ে সামান্য ভুল বোঝা বুঝি হয়েছে। পরবর্তীতে বনরক্ষীদের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংশা হয়েছে। তার পরেও প্রতিপক্ষরা তাদেরকে ষড়যন্ত মুলক মামলায় ফাঁসিয়েছেন। এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ এস, কে, আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, নির্যাতিত জেলের মহাজনের দ্বায়েরকৃত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা রের্কড করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।