পদোন্নতির দাবিতে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসকদের আন্দোলন

শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২০

ঢাকা: পদোন্নতির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর তৃতীয়বারের মত স্মারকলিপি দিয়েছেন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বঞ্চিত মেডিকেল অফিসার ও গবেষণা সহযোগীরা। প্রায় দুই শতাধিক পোস্ট গ্রাজুয়েট কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচি পালন করেন।

দেড় যুগের বেশি সময় ধরে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় এর আগে গত ১ ডিসেম্বর ২০১৯ প্রথম দফা আন্দোলন করেন তারা। সেদিন প্রথম স্মারকলিপি দেন এই চিকিৎসকরা। এরপর ১৪ জানুয়ারি ২০২০ আরো একবার স্মারকলিপি দিয়ে দাবি দাওয়া পেশ করেন এই কর্মকর্তারা। এবার তৃতীয়বারের মতো আন্দোলনে নেমেছেন তারা।

বিএসএমএমইউর মেডিসিন, নিউরোমেডিসিন, নিউরোলজি, নিউরো সার্জারি, গাইনি, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিকস, রিউম্যোটোলজিসহ প্রায় ৫৪টি বিভাগের চিকিৎসকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তির দফতরে অবস্থান নিয়ে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে দাবি পেশ করেন। এ সময় তাদের পদোন্নতির ব্যাপারে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান করেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিএসএমএমইউ একটি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও স্থায়ীভাবে নিয়োগকৃত চিকিৎসকদের পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরবর্তীতে যারা পোস্ট গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করবেন, এ ধরনের চিকিৎসকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা ছিল যেখানে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পরে তাদেরকে স্ববেতনে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হতো।

পরবর্তীতে ডিপার্টমেন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই পদে আত্মীকরণ করা হতো; কিন্তু ২০১২ সালে সেই আইনটি অজানা কারণে রহিত হওয়ার অভিযোগ করেন এই চিকিৎসকরা।

তারা জানান, প্রায় দুই শতাধিক চিকিৎসক পদোন্নতিবঞ্চিত অবস্থায় আছে।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্যমতে, যারা পদোন্নতিবঞ্চিত আছে তাদের অনেকের অবসরের সময় খুব ঘনিয়ে আসছে। এবং প্রায় ১২ বছর যাবৎ অনেকে পদোন্নতি না পেয়ে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন এই চিকিৎসকরা। যদিও তাদের অনেকের বাংলাদেশের সেরা ডিগ্রী এফসিপিএস ও এমডি সম্পন্ন করা আছে।

তাদের অভিযোগ, সরকারি সেক্টরে যে সকল চিকিৎসক কর্মরত তারা চিকিৎসাক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করলেই তাদের দ্রুত কনসালটেন্ট পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। পরবর্তীতে ডিপিসি এর মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কিন্ত বিএসএমএমইউতে কর্মরত প্রায় দুই শতাধিক পোস্ট গ্রাজুয়েশন চিকিৎসক তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেও পদোন্নতি বঞ্চিত।

আন্দোলনরত বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকদের দাবি, করোনার এই পরিস্থিতিতেও টেলিমেডিসিন সেবা, বহির্বিভাগের সেবা, ইনডোরে রাউন্ড, করণা আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ফিভার ক্লিনিক এবং কোভিড ইউনিটের রোগীদের সেবা প্রদানসহ সহকারী অধ্যাপক পদের সমমানের কাজে ব্যস্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবার মান কে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী চিকিৎসকরা জানান, চিকিৎসকদের পদোন্নতি বঞ্চনার এই বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করার জন্য এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রোভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, সকল সিন্ডিকেট মেম্বার, সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্বাচিপের সভাপতি সেক্রেটারি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর এবিএম আব্দুল্লাহ সহ সকল পর্যায়ের নীতি নির্ধারণী ব্যক্তিদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর উপস্থাপনায় সিন্ডিকেট মেম্বারদের সর্বসম্মতিক্রমে একটি সিন্ডিকেট কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তী সিন্ডিকেট মিটিং এর আগে তাদেরকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত প্রদান করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু সেই কমিটির মেয়াদ ছয় মাসের অধিক পার হয়ে যাওয়ার পরেও সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট প্রদান না করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে মৌন মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সিন্ডিকেট বৈঠকে বিএসএমএমইউর বিধিমালা থেকে চিকিৎসকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত ১৯৯৯ সালের নীতিমালাটি বাদ দেওয়া হয়।