ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও এই আইনে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২০

ঢাকা : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং এই আইনে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। বৃহস্পতিবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের এক সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় ডিজিটাল কালো আইন পাসের দিন “১৯ সেপ্টেম্বরকে মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তর্ধান দিবস” হিসেবে প্রতি বছর পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ডিইউজে’র সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সভায় অন্যদের মধ্যে নুরুল আমিন রোকন, কায়কোবাদ মিলন, শাহীন হাসনাত, খন্দকার আলমগীর হোসাইন, আবুল কালাম, দেওয়ান মাসুদা সুলতানা, ডিএম অমর, শহীদুল ইসলাম, জেসমিন জুঁই, আবুল হোসেন খান মোহন , মো: আব্দুল হালিম, শামসুল আরেফিন, আলমগীর শিকদার,আবু বকর ও আবু হানিফ, তাসরিন প্রধান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, করোনাকালে যেখানে রাষ্ট্রকে মানবিক হওয়ার কথা ছিল সেসময়ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নিপীড়ন আরো বেড়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করায় সম্প্রতি সম্পাদকসহ সাংবাদিক, লেখক, কার্টুনিষ্ট, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা একের পর ঘটেই যাচ্ছে। । এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অবিলম্বে আইনটি বাতিল করতে হবে।

সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, গত কয়েক মাসে প্রায় ৪০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব গ্রেপ্তারের ঘটনা এমন এক ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে স্বাভাবিক সাংবাদিকতার কাজ অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

লক্ষ করা যাচ্ছে অন্য আইনের তুলনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এখন অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি ব্যবহার হচ্ছে। এর কারণ হলো, এই আইনের আওতায় পুলিশ স্রেফ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে এবং এই আইনের বেশির ভাগ ধারাই অজামিনযোগ্য। ফলে এই আইনে গ্রেপ্তার হওয়ার পর একজন ব্যক্তিকে কারাগারেই রয়ে যেতে হয়।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন মনে করে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে শাসকগোষ্ঠী জনগনের কন্ঠ রোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

সভায় বলা হয়, অন্যান্য আইনে দায়েরকৃত মামলার তুলনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। শুধু সাংবাদিকরাই নয়, এমামলা থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। সরকারের সমালোচনা করলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে।

সম্প্রতি রংপুর ও রাজশাহীতে দুইজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে, যাদের একজন নারী, মামলা দায়েরের পর পরই কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই মধ্যরাতে গ্রেপ্তার করা হয়। অথচ হত্যাচেষ্টা ও দুর্নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামিরা চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশত্যাগ করেছেন; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিষয়ে কোনো তৎপরতা দেখায়নি। আইন প্রয়োগের এই বৈষম্যমূলক প্রবণতা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি বিরাট হুমকি ।

বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কারাবন্দিদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। ভার্চ্যুয়াল আদালতে ৩০ দিনে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ৪৫ হাজার ব্যক্তির জামিন হয়েছে। অথচ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অভিযুক্তরা জামিন পাচ্ছেননা।

দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক, প্রবীণ সাংবাদিক আবুল আসাদ, পক্ষকাল ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল এবং দৈনিক কক্সবাজার বাণীর সম্পাদক ফরিদুল মোস্তফা খানের জামিন আবেদন বার বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। আমরা আবুল আসাদ, শফিকুল ইসলাম কাজল, ফরিদুল মোস্তফা খানসহ মতপ্রকাশের কারণে এই আইনে গ্রেপ্তার অন্য অভিযুক্তদের অবিলম্বে মুক্তি ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে গণমাধ্যমে ছাঁটাই বন্ধ , করোনাকালে চাকরিচ্যূতদের চাকরিতে পূর্ণবহাল ,বন্ধ চ্যনেলগুলো চালু, বকেয়া বেতন পরিশোধ, পক্ষপাতহীনভাবে বেকার সাংবাদিকদের তালিকা করে আর্থিক সহায়তা দান,সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়ার দাবী জানানো হয় ।

বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবী জানানো হয়।