হাতীবান্ধায় চালককে অচেতন করে ট্রাক ছিনতায়ের অভিযোগ

বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২০

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক ট্রাক চালককে নেশা জাতীয় ঔষধ সেবন করিয়ে অচেতন অবস্থায় সাদা কাগজ ও চেকে সহি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি একটি ট্রাক ছিনতাইয়ের অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় চালক মিজানুর রহমানের মা মালেকা বেগম স্থানীয় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, মালেকা বেগমের ছেলে মিজানুর একজন ট্রাক চালক। গত ৬/৭ মাস ধরে তার ছেলে উপজেলার মধ্য গড্ডিমারী গ্রামের মজিবর রহমানের পুত্র ইয়াকুব আলী ও একই গ্রামের মকবুলের পুত্র বিল্পবের সঙ্গে শেয়ারে ট্রাকের ব্যবসা করছেন। ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৩১ জুলাই’ ২০২০ ইং তারিখে মিজানুর রহমানকে নেশা জাতীয় ঔষধ সেবন করে সাদা কাগজে ও চেকে সহি করে নিয়ে দইখাওয়া চিড়ার মিল এলাকায় অচেতন অবস্থায় ফেলে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন মিজানুরকে অচেতন অবস্থায় দেখে পরিচয় জেনে তার পরিবারকে মোবাইল ফোনে সংবাদ দেয়।

খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থল থেকে মিজানুরকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরবর্তিতে ইয়াকুব আলী ও বিল্পব ভাড়াটিয়া লোকজনের মাধ্যমে উপজেলার দোয়ানী মোড়ে মিজানুরকে আটক করে শারীরিক নির্যাতন করে ট্রাক ছিনিয়ে নেয়। ট্রাকটি বর্তমানে শ্রমিক নেতা সহিদুল ইসলাম ওরফে মাথাফাটার হেফাজতে রয়েছে। উক্ত ট্রাক উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন অভিযোগকারী মালেকা বেগম।

ইয়াকুব আলী ও বিল্পব এর সাথে এ ব্যাপারে কথা হলে, মিজানুর রহমানকে নেশা জাতীয় ঔষধ সেবন করিয়ে অচেতন অবস্থায় সাদা কাগজ, চেকে সহি করে নেওয়া ও ট্রাক ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

শ্রমিক নেতা সহিদুল ইসলাম ওরফে মাথাফাটা বলেন, ছিনতাই নয়, ট্রাকটি আমার হেফাজতে রয়েছে। মিজানুর রহমানের সাথে আপনার কোন লেন-দেন রয়েছে কি না এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার সাথে আমার কোন লেনদেন নেই। পূর্বে একটি লেনদেন ছিল তা আমি মওকুফ করে দিয়েছি।

হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।