এমপিদের থোক বরাদ্দ অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে: টিআইবি

বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২০

ঢাকা : নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়নের জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি বছর ৫ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই বরাদ্দ স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতার চর্চা, নির্বাচনে ভোট নিশ্চিত করার চেষ্টা ও অনৈতিকভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এছাড়া এ সংক্রান্ত প্রকল্পে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, জবাবদিহিতার অভাব, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার অকার্যকরতা, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সদিচ্ছার ঘাটতি, অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার, ট্যাক্স ফাঁকি, আঞ্চলিক গোষ্ঠীর প্রভাব, কার্যাদেশ বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক অস্বচ্ছতা এবং বাস্তবায়িত প্রকল্পের নিম্নমানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘অনৈতিকভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের পথ হিসেবে সংসদীয় আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দ: অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থোক বরাদ্দে নেয়া প্রকল্পের কার্যকর তদারকি, প্রকল্পের সার্বিক মূল্যায়ন এবং সংসদ সদস্যের সততা ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট আচরণ বিধির অনুপস্থিতি অনিয়ম-দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণকে উৎসাহিত করছে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ৩৫০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সিটি কর্পোরেশন এলাকা সংশ্লিষ্ট ১৬টি ও ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন ছাড়া ২৮৪টি সংসদীয় আসনের সদস্যদের প্রতিবছর এলাকার উন্নয়ন কাজের জন্য ৫ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেয়া হয়।

সেই থোক বরাদ্দ পাওয়া ৫০টি আসনে এই গবেষণা চালানো হয়। ২০১৯ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণার তথ্য সংগ্রহ; ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের ইচ্ছানুযায়ী কাজ নির্বাচন ও বাস্তবায়ন হওয়ার কারণে স্কিমের সম্ভাব্যতা যাচাই, কারিগরি ও আর্থিক বিশ্লেণের সুযোগের অনুপস্থিতি বিদ্যমান এবং বাস্তবায়নের সময় অর্থ অপচয়ের ঝুঁকিসহ কাজের স্থায়িত্বশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।