নির্বাচন নিয়ে বিক্ষোভ: বেলারুশে নিহত ১, ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান

মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিরোধপূর্ণ ফলকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় রাতের মতো বিক্ষোভে উত্তাল বেলারুশের রাজধানী মিনস্ক। এতে একজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই বিক্ষোভকারীর হাতে থাকা একটি বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরিত হয়ে তিনি মারা যান। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেখানে সহিংসতায় এটাই প্রথম মৃত্যু। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, সোমবার দিবাগত রাতেও সেখানে দ্বিতীয় রাতের মতো বিক্ষোভ চলছিল। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আলোকজান্দার লুকাশেঙ্কো নির্বাচনে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ ভোট পেয়েছেন বলে বলা হচ্ছে।

আর তার প্রধান বিরোধী সভেতলানা তিকানোভস্কায়া শতকরা প্রায় ১০ ভাগ ভোট পেয়েছেন। কিন্তু তিনি এই ফল মানতে নারাজ। তার দাবি, নির্বাচনে তিনিই প্রকৃত বিজয়ী। নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক ছিলেন না। ফলে ব্যাপক জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে। প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর নেতৃত্বে বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হতাশার মধ্যে এই নির্বাচন হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদের র‌্যালিতে আকৃষ্ট হয়েছিল বিপুল পরিমাণ মানুষ। নির্বাচনের আগে আগে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চালানো হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন লুকশেঙ্কো। তাকে বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি ‘ভেড়া’ বলে আখ্যায়িত করেন বিরোধী দলীয় সমর্থকরা। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মতে, তিনি শতকরা ৮০.২৩ ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তিকানোভস্কায়া পেয়েছেন শতকরা ৯.৯ ভাগ ভোট। তার স্বামী বর্তমানে জেলে। তার হয়ে তিকানোভস্কায়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

সোমবার দিবাগত রাতে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ শুরু হলে তাতে দাঙ্গা পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ও স্টান-গ্রেনেড ছুড়েছে। পোল্যান্ডভিত্তিক বেলস্যাট টিভি তার ফুটেজে প্রচার করেছে এসব দৃশ্য। রিপোর্টে বলা হয়, পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হলে কিছু বিক্ষোভকারী পাল্টা হামলা চালায় পুলিশের বিরুদ্ধে। তারা হাতবোমা নিক্ষোপ করে। অনেকে ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। এ সময় বেশ কিছু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন একজন সাংবাদিক। সোমবার দিনশেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এক বিক্ষোভকারী মারা গেছেন।

জবাবে বিরোধী দলীয় প্রার্থী তিকানোভস্কায়া বলেছেন, এখন কর্তৃপক্ষের উচিত কিভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায় তা নিয়ে ভাবা। তার ভাষায়, আমরা দেখতে পাচ্ছি কর্তৃপক্ষ এখনও শক্তি প্রয়োগ করে তাদের পদ ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করছে। তারা আমাদের কথা শুনছেই না।