করোনায় মৃত সরকারি চাকুরেদের ঋণ মওকুফের চিন্তা

মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২০

ঢাকা : কোভিডে (করোনাভাইরাস) মারা যাওয়া সরকারি চাকুরেদের ঋণ মওকুফের চিন্তা করা হচ্ছে। এই ঋণের মধ্যে রয়েছে গৃহনির্মাণ, গৃহমেরামত, কম্পিউটার, মোটরকার, মোটরসাইকেল ঋণ। চাকরিরত অবস্থায় মারা যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট থেকে অনাদায়ী ঋণের অপরিশোধিত আসল ও সুদ বা দণ্ডসুদ মওকুফ সংক্রান্ত কমিটি বৈঠকে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিদম্যান নীতিমালাটিও পরিবর্তন করা হতে পারে। আগামী মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সংক্রান্ত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা গতকাল সোমবার জানান, সরকারি চাকরিরত অবস্থায় মারা যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উত্তরাধিকারীর নিকট অথবা অক্ষম (সম্পূর্ণ মানসিক প্রতিবন্ধী বা পঙ্গু হয়ে অবসর গ্রহণকারী দুর্দশাগ্রস্ত) কর্মকর্তা/কর্মচারীর কাছ থেকে অনাদায়ী ঋণের অপরিশোধিত আসল ও সুদ বা দণ্ডসুদ মওকুফের বিষয়ে একটি নীতিমালা বিদ্যমান রয়েছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জারি করা এই নীতিমালার অংশ হিসেবে অর্থ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি কাজ হচ্ছে আসল ও সুদ মওকুফের বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করা। প্রতি মাসে কমিটি একটি করে বৈঠক করে থাকে। কিন্তু কোভিডের কারণে গত কয়েক মাস কমিটি কোনো বৈঠক করতে পারেনি। এখন এই বৈঠকটি আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে বলে নোটিশ জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই বৈঠকে কোভিডের কারণে মারা যাওয়া সরকারি চাকুরিদের ঋণ মওকুফের বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে তাদের ঋণ কিভাবে মওকুফ করা যেতে পারে বিষয়টি আলোচিত হতে পারে। তবে কোভিডের ফলে সরকারি কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে সে ক্ষেত্রে তার ঋণ পুরো মওকুফ করা যায় কিনা তা বিবেচনা করা হতে পারে এ ক্ষেত্রে। সম্পূর্ণ মানবিক দিকটি বিবেচনায় নেয়া হবে। বৈঠকটি হওয়ার পর এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান যে নীতিমালা রয়েছে তা পরিবর্তন করতে হবে।

এ দিকে বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণগ্রহিতা সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী চাকরিরত অবস্থায় মারা গেলে অথবা অক্ষমতাজনিত কারণে অবসর গ্রহণ করলে গৃহীত ঋণের অপরিশোধিত আসল ও সুদ মওকুফের বিষয় বিবেচনাযোগ্য হবে। এ ক্ষেত্রে অবসর উত্তর ছুটিকাল (পিআরএল) চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে। ঋণ গ্রহণকারী কর্মকর্তা/কর্মচারী প্রাপ্য গ্রাচ্যুইটি মৃত্যুর আগে নিষ্পত্তি হয়ে থাকলে তাদের ক্ষেত্রে মওকুফের প্রস্তাব বিবেচনাযোগ্য হবে না। চাকরিরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী দায়দেনাগ্রস্ত নিঃস্ব পরিবার-পরিজন রেখে মারা গেলে অথবা অক্ষমতাজনিত কারণে অবসর গ্রহণ করলে তাদের ক্ষেত্রে প্রাপ্য সরকারি সুবিধাদি বিবেচনাক্রমে আসল ও সুদ মওকুফযোগ্য হবে। তবে প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি মোট ১২ লাখ টাকা বা তদূর্ধ্ব হলে উল্লেখিত ক্ষেত্র ব্যতীত অসল মওকুফ বিবেচনায় আনা হবে না বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে- অপরিশোধিত ঋণের পরিমাণ অবসরজনিত এককালীন প্রাপ্যের অর্ধেক বা বেশি হলে (শেষ পেনশনযোগ্য অঙ্কের ৫০ শতাংশ) মৃত/অক্ষম ব্যক্তির পরিবারের সদস্য সংখ্যা, ছেলেমেয়েদের বয়স, লেখাপড়া ও আর্থিক অবস্থা ইত্যাদি বিবেচনাপূর্বক কমিটি আসল মওকুফের সুপারিশ করবে। দুস্থ/অসহায় পরিবার-পরিজন রেখে চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী/অক্ষমতাজনিত কারণে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীর ক্ষেত্রে অপরিশোধিত সুদের সম্পূর্ণ অংশ মওকুফের বিষয় বিবেচনাযোগ্য হবে। সুদ ও আসল মওকুফের হিসাব একটি রেজিস্ট্রারে সংরক্ষণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো অর্থবছরে আসল ও সুদসহ মওকুফের পরিমাণ বাজেটে বরাদ্দকৃত অঙ্কের অতিরিক্ত হবে না বলে পরিপত্রে বলা হয়েছে।