প্রথম মাসে ব্যাংক থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিল সরকার

সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২০

ঢাকা : অর্থবছরের প্রথম মাসের (জুলাই) প্রথম ২৬ দিনে ব্যাংক থেকে নিট ৬ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা ঋণ নিল সরকার। একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে পূর্বের নেওয়া ঋণ বাবদ পরিশোধ করেছে ২ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রতিবছরই ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় সরকার। তবে গত অর্থবছর থেকে এর লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেই চলেছে। এজন্য সমাপ্ত অর্থবছরে সরকারি ঋণের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সরকার পৌঁছে যায় সেই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি। তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। ঋণের এই অংক আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১০৯ শতাংশ বেশি।

রাজস্ব আদায়ে নাজুক অবস্থা এবং সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে যাওয়ায় গত অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের বেশি ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ছিল। তার মধ্যে অর্থবছরের শেষ দিকে এসে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অর্থনীতির সব হিসাব এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় সেই ঋণনির্ভরতা আরও বেড়েছে। নতুন অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা ছিল। তবে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৮২ হাজার ৪২১ কোটি টাকা করা হয়। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

২৯ জুলাই বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতির এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ, যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুন শেষে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুনে সেই প্রবৃদ্ধি আরো নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে। এটি চলতি মুদ্রানীতিতে প্রক্ষেপিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। এটি এযাবৎকালের সর্বনিম্ন।