আর লুকিয়ে থাকা গেলো না, গোয়েন্দাদের জেরার মুখে রিয়া

শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২০

বিনোদন ডেস্ক : জিজ্ঞাসাবাদ পিছনোর আবেদন জানিয়েও ছাড় পেলেন না রিয়া চক্রবর্তী। দিন কয়েক লুকিয়ে থাকার পর অবশেষে শুক্রবার জনসমক্ষে সুশান্তের প্রাক্তন প্রেমিকা। নির্ধারিত সময়মতোই এদিন ইডির (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) দপ্তরে রিয়াকে জেরা করা শুরু হয়। সঙ্গে পৌঁছেছেন তার ভাই সৌহিক চক্রবর্তীও।

কারণ, রিয়া যদি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে হাজির না হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে হাজিরা দিতে অসমর্থ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। তাই একপ্রকার নিরুপায় হয়েই ই ভাইয়ের সঙ্গে ইডির দপ্তরে হাজির হন অভিনেত্রী। তবে, অভিনেত্রীর আইনজীবী অবশ্য বলেছেন, রিয়া ভীষণই আইনকানুনের বাধ্য। তাই কথামতোই পৌঁছেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে।

সুশান্ত সিং রাজপুতের ব্যাংক অ্যাকউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। সেই আর্থিক তছরুপের অভিযোগের ভিত্তিতে গত সপ্তাহে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল ইডি’র তরফে। তার রেশ ধরেই ইডির দপ্তরে শুক্রবার যথা সময়ে হাজির হলেন রিয়া চক্রবর্তী। ভাই সৌভিক চক্রবর্তীও দিদির সঙ্গে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অফিসে হাজির হন।

প্রসঙ্গত, সুশান্ত সিং রাজপুতের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন রিয়া চক্রবর্তী, অভিযোগ তুলে সম্প্রতি পাটনার রাজীব নগর থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন অভিনেতার বাবা কৃষ্ণ কুমার সিং। সেই অভিযোগের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে নেমে গত শুক্রবার আর্থিক তছরুপের অভিযোগ দায়ের করেছিল খোদ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।

সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের জন্য আর্থিক কারচুপির অভিযোগ দায়ের করেছিল ইডি। এই বিষয়ে বিহার পুলিশের থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। ইডির সেই নির্দেশের পরই বিহার পুলিশের একটি দল কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংকের বান্দ্রা শাখায় যায় সুশান্তের অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে। সেখানেই বেশ কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর পাওয়া যায়, যেগুলির সঙ্গে সুশান্তের কোনওরকম যোগ ছিল না বলেই দাবি করেছেন তার বাবা কে কে সিং। তারপরই লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। তার প্রেক্ষিতেই এবার ইডির দপ্তরে কড়া জেরার মুখে রিয়া চক্রবর্তী এবং তার ভাই সৌহিক।

প্রসঙ্গত, সুশান্তের তিনটি কোম্পানির আইনত অংশীদার রিয়া এবং তার ভাই। যদিও তাদের কেউই এই সংস্থা খোলার সময় মূলধন বিনিয়োগ করেননি বলে জানা গিয়েছে। উপরন্তু অভিনেতার পরিবারের কাছেও নাকি এই কোম্পানিগুলো সম্পর্কে কোনও তথ্যই ছিল না!

রিয়াই নাকি সুশান্তকে জোর করে এই কোম্পানিগুলো খুলিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন সুশান্ত ঘনিষ্ঠরা। যাবতীয় বিষয়েই ইডির তরফে রিয়াকে জিজ্ঞেসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।