প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবাননের রাজধানী বৈরুতে দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৭৮ জন নিহত ও ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আহতের ঘটনায় দায়ীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব বলেছেন, ‘রাসায়নিক পদার্থের গুদামটি ২০১৪ সাল থেকে ওখানে রয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ ও এ-সংশ্লিষ্ট তথ্য সবাইকে জানানো হবে। দায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। এটা আমার প্রতিশ্রুতি’

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার পর বৈরুতে দুটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের হয়। বিস্ফোরণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মুহূর্তেই গোটা বিশ্বে তোলপাড় পড়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি নয়, পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটে বৈরুতে।

তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ জানা না গেলেও দেশটির একাধিক সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সিএনএন-এর খবরে এটি স্পষ্ট যে, বিস্ফোরণস্থলে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক বোঝাই ছিল। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সাধারণত বোমা তৈরি পাশাপাশি সার তৈরিতেও ব্যবহার হয়। বিস্ফোরণে ছোটখাটো ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠে পুরো বৈরুত শহর।

মঙ্গলবার রাতের ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার পর রাতেই দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব দায়ীদের হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, ‘এ ভয়াবহ বিপর্যয়ের জন্য যারা দায়ী তাদের এর মাশুল গুণতে হবে। বিস্ফোরণে হতাহতদের কাছে এটা আমার প্রতিশ্রুতি ও জাতীয় অঙ্গীকার।’

প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের সরকার এই দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে অধিক মনোযোগী। খুব শিগগিরই বন্দরের ওই গুদামঘর নিয়ে তথ্য সামনে আনা হবে।’

এদিকে বুধবার ভোরে লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের অভিঘাতে একাধিক ঘরবাড়ি ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে প্রাণহানির পাশাপাশি প্রচুর ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।’

অপরদিকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকেই বিস্ফোরণ হয়েছে নিশ্চিত করে দেশটির অভ্যন্তরীণবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ ফাহমি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্য আল-জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বন্দরের গুদামে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট প্রচুর পরিমাণে মজুদ ছিল। তা থেকেই এমন ভয়ানক বিস্ফোরণ ঘটেছে। কিন্তু এগুলো কারা মজুদ রেখেছিল তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ তদন্ত করছে, এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বৈরুতের হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণেরও জায়গা নেই। আহতদের অনেকে বৈরুতের বাইরে অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ছুটছেন। তাদের যথাসাধ্য সরকারি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে।

মঙ্গলবার রাতের ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও দেশটির প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।