আল জাজিরার কুয়ালালামপুর অফিসে অভিযান, কম্পিউটার জব্দ

বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২০

নিউজ ডেস্ক : আল জাজিরার কুয়ালালামপুর অফিসে অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। জব্দ করেছে দুটি কম্পিউটার। করোনা মহামারির মধ্যে সরকারের অভিবাসননীতি নিয়ে ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়া’স লকডাউন’ শিরোনামে ডকুমেন্টারি প্রচারিত হওয়ার পরই আল জাজিরার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে দেশটি।

সরকারের অভিবাসননীতি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় গ্রেফতার করা হয় বাংলাদেশি নাগরিক রায়হান কবিরকে। তারপরই দেশটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। মঙ্গবারের অভিযানকে ‘ভয়াবহ উস্কানি’ আখ্যা দিয়েছে আল জাজিরা।

এদিন মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, আল জাজিরার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, সম্মানহানি, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করবে। ঘোষণার পরই গণমাধ্যমটির অফিসে অভিযান চালায় মালয়েশিয়ার পুলিশ।

আল জাজিরার ওয়ান-জিরো-ওয়ান ইস্ট শিরোনামের অনুষ্ঠানে করোনা মহামারির মধ্যেই মালয়েশিয়া সরকারের অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযান নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়। ডকুমেন্টারিতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশটির সরকারের চালানো নানা অমানবিকতা উঠে আসে।

আল জাজিরা ইংরেজি বিভাগের মহাপরিচালক গাইলস ট্রেন্ডল, পুলিশি অভিযান এবং নতুন নতুন অভিযোগ দায়ের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ধরনের অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ড এবং বড় অংকের অর্থ জরিমানার বিধান রয়েছে। আল জাজিজার বিরুদ্ধে এসব ফৌজদারী তদন্ত শিগগিরই বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে ট্রেন্ডল বলেন, গণমাধ্যমের অফিসে অভিযান এবং কম্পিউটার জব্দ, স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা। অভিযান ও মামালার মাধ্যমে সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে বলেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

‘আল জাজিরা তার গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষে থাকবে। তার প্রতিবেদনের পক্ষে থাকবে। ক্ষমা চাওয়ার মতো কিছু হয়নি। সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়।’ বলেন গাইলস ট্রেন্ডল।

গেলো ৩ জুলাই ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন’ ডকুমেন্টারি প্রচারিত হয়। তারপর এক মাস ধরে আল জাজিরার ৭ সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ। তারপরই অভিযানের ঘটনা ঘটলো।

আল জাজিরার এ ডকুমেন্টারিকে অসত্য, বিভ্রান্তিকর, ত্রুটিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। যারাই এতে বক্তব্য দিয়েছে, তথ্য দিয়েছে এবং শর্টফিল্মটি তৈরি করেছে তাদেরকে নানারকম ভয়ভীতি এমনকি হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আল জাজিরার।

২৪ জুলাই আটক করায় বাংলাদেশি নাগরিক রায়হান কবিরকে। ইন্টারভিউ দেয়ার পরই বাতিল করা হয় তার ওয়ার্ক পারমিট। বর্তমানে আল জাজিরা ছাড়া অন্যান্য গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও তাদের প্রতিবেদনের জন্য প্রশ্নের মুখে পড়ছেন বলে জানানো হয়।