করোনা থেকে মুক্তির পর হৃদরোগে আক্রান্ত ৭৮% রোগী : গবেষণা

শনিবার, আগস্ট ১, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠলেও নিস্তার নেই। বরং আশঙ্কা বাড়াচ্ছে হৃদরোগ। জার্মানির একটি হাসপাতালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৭৮ শতাংশের বেশি সুস্থ রোগীর ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডের সমস্যা দেখা গিয়েছে। কিন্তু তাঁদের আগে থেকে কোনও সমস্যা ছিল না।

‘জেএএমএ কার্ডিয়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ সুস্থ করোনা রোগীর হৃদপেশিতে তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশনের ঝুঁকি দেখতে পেয়েছেন ফ্রাঙ্কফুর্টের ইউনিভার্সিটি হসপিটালের গবেষকরা । এক্ষেত্রেও আগে থেকে তাঁদের ওই সংক্রান্ত কোনও অসুস্থতা ছিল না।

ওই গবেষণার জন্য গত এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ইউনিভার্সিটি হসপিটাল থেকে ছাড়া পাওয়া ১০০ জন রোগীর উপর গবেষণা চালানো হয়েছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, কার্ডিয়াক ম্যাগনেটিক রেসোনেন্স ইমেজিংয়ে দেখা গিয়েছে যে ৭৮ শতাংশ সুস্থ রোগীর ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডে বিভিন্ন সমস্যা আছে। একইভাবে হৃদপেশিতে তীব্র প্রদাহ বিষয়টিও গবেষকদের নজরে এসেছে। তবে দীর্ঘকালীন সময়ে হৃদপিণ্ডের উপর করোনার কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

ভারতেও সুস্থ রোগীদের দীর্ঘকালীন স্বাস্থ্যজনিত প্রভাব পড়ার খবর সামনে এসেছে। সেজন্য সেরে ওঠা করোনা রোগীদের বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষা করার প্রস্তাব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’-র ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক হেলথ’-এর ‘লাইফ কোর্স এপিডেমিয়োলজি’-র প্রধান গিরিধারা বাবু বলেন, ‘শতাংশটা বড়সড় এবং এটা ভাইরাস করছে বা সেটির পরবর্তী প্রভাবের (যেমন – ইনফ্লেমেশন) জেরে হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে আরও বড়মাপের গবেষণার প্রয়োজন আছে। সেজন্য অবশ্য অর্থ লাগবে এবং তথ্যের অ্যাকসেসের প্রয়োজন হবে।’

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কিডনি, লিভার, এমনকী চোখেও দীর্ঘকালীন সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এতদিনের যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তার উপর স্বাধীনভাবে নজরদারি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের টেকনিকাল উইং ‘ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেলফ সার্ভিসে’-এর একটি যৌথ দল। করোনা থেকে সেরে ওঠার পর রোগীদের স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা সমাধানের জন্য কী করা উচিত, সেই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে। সেজন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘অফিসার ইন স্পেশাল ডিউটি’ রাজেশ ভূষণ বলেন, ‘দীর্ঘকালীন কী ধরনের শুশ্রুষা প্রয়োজন, তা নিয়ে আমাদের বিশেষজ্ঞরা একটি নথি তৈরি করছেন।’ সেই দলের নেতৃত্বে আছেন জেনারেল হেলথ সার্ভিসের অধিকর্তা রাজীব গর্গ, এইমস দিল্লি, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং ভারতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) প্রতিনিধিরা।