ফের লড়াইয়ে প্রস্তুত সেই বীর কিশোরী

আমি এখন আর ভয় পাই না

শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মা-বাবাকে হত্যা করা তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ‘বীর’ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছেন ১৫ বছর বয়সী আফগানিস্তানের কিশোরী কামার গুল। প্রতিশোধ হিসেবে দুই জঙ্গিকে হত্যা করেছিল সে।

তালেবানের বিরুদ্ধে ফের লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে গুল। এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার টেলিফোনে এএফপিকে সে জানায়, ‘আমি এখন আর তাদের (জঙ্গি) ভয় পাই না।

তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’ গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের ঘোর প্রদেশের গ্রিওয়া গ্রামে গুলের বাড়িতে হামলা চালায় তালেবানরা।

হামলার একপর্যায়ে ওই কিশোরী তাদের পরিবারের একে-৪৭ রাইফেলটি তুলে নেয়। গুলি চালিয়ে দুই জঙ্গিকে হত্যা করে এবং বেশ কয়েকজনকে আহত করে। পরে আরও অনেক জঙ্গি ওই বাড়িতে হামলা চালানোর জন্য হাজির হয়। কিন্তু গ্রামবাসী ও সরকারপন্থী মিলিশিয়াদের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটে।

ওই কিশোরীর বাবা সরকার সমর্থক হওয়ায় তালেবান তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল। তার বাবা ছিলেন গ্রামপ্রধান। ব্যবহৃত একে-৪৭ রাইফেলটি হাতে কিশোরীটির একটি ছবি সম্প্রতি স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

নেটিজেনরা কিশোরীর প্রশংসা করেছেন। ফেসবুক ব্যবহারকারী মোহাম্মদ সালেহ বলেছেন, ‘মা-বাবার স্থান কেউ পূরণ করতে পারবে না, কিন্তু এ প্রতিশোধ আপনাকে কিছুটা শান্তি দেবে।’

নাজিবা রাহমি বলেন, ‘সাহসের জন্য তাকে সালাম’। সেদিনের সেই লোমহর্ষক ঘটনা এএফপিকে জানায় গুল। সে বলে, মধ্যরাতে তালেবানরা গুলের বাড়িতে এসে দরজায় আঘাত করে। সে তার ১২ বছরের ভাইয়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল। গুল জানায়, ‘দরজায় আঘাতের শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। মা তাদের বাধা দিতে এগিয়ে যাওয়ার আগেই জঙ্গিরা দরজা ভেঙে ফেলে।

তারা আমার মা-বাবাকে ঘরের বাইরে নিয়ে কয়েকবার গুলি করে। আমি ভয়ে পেয়ে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পরে আমার রাগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। আমি বাড়িতে থাকা বন্দুকটি নিয়ে ঘরের বাইরে গিয়ে তাদের দিকে গুলি চালালাম। সঙ্গে সঙ্গে এক জঙ্গি মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ে।’ সে আরও জানায়, ‘জঙ্গি দলের নেতা আমার দিকে গুলি ছোঁড়ার আগেই আমার কাছ থেকে বন্দুক নিয়ে আমার ভাই তাকে গুলি করে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই জঙ্গি পালিয়ে যায়। পরে আবার ফিরে আসে।’

বাবার কাছেই একে-৪৭ চালানো শিখেছেন কিশোরী গুল। সাহসী এ কিশোরী জানায়, আমি গর্বিত যে, আমি আমার বাবা-মায়ের হত্যাকারীদের খুন করেছি। পরবর্তী সময় জঙ্গিরা আমাকে ও আমার ভাইকে হত্যা করতে এসেছিল। বাবা-মাকে শেষ বিদায় জানাতে না পারায় আফসোস থেকে গেছে গুলের।

সে বলে, ‘দুই তালেবান জঙ্গিকে হত্যার পর বাবা-মায়ের দিকে এগিয়ে গেলাম। কিন্তু তাদের নিঃশ্বাস ততক্ষণে ছিল না। আমার কষ্ট একটাই- তাদের জীবনের শেষ সময়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারলাম না।’

গুল ও তার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় আনতে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নারী অধিকার কর্মী ও সাবেক এমপি ফৌজিয়া কোফি।