৬০ টি স্কুল প্লাবিত, দিশেহারা এলাকাবাসী

বুধবার, জুলাই ২২, ২০২০

ফরিদপুর: ফরিদপুরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে জেলা সদর উপজেলা,চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার ৬০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ৪টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১টি দাখিল মাদরাসা প্লাবিত হয়েছে। ২০টি বিদ্যালয়ে পানি ছুই ছুই অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে জেলা সদর থেকে চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার সড়কটির ৫০ মিটার ধসে যাওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।এছাড়া ওই সড়কের কয়েকটি স্থান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে এবং বিভিন্ন অংশে ফাটলও দেখা দিয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে ফরিদপুর শহরের বর্ধিত পৌরসভার ২৫নং ওয়ার্ডের একটি পাকা সড়ক পানির চাপে ধসে গেছে।

ফরিদপুরে বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন। গত কয়েকদিন যাবৎ জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণসহ নানা সহায়তা করে আসছেন।

এবার জেলা প্রশাসক অতুল সরকার নিজেই বন্যা কবলিতদের মাঝে হাজির হয়ে তাদের হাতে তুলে দেন খাদ্য সামগ্রী। এ দুর্যোগকালীন সময়ে জেলা প্রশাসকের হাত থেকে ত্রাণ পেয়ে খুশি দুর্গত এলাকার মানুষ।

সোমবার সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গীর চর গ্রামে ৫ শতাধিক বন্যার্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার,পানি রাখার ক্যান ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবেলট বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার।

করোনা ও বন্যার সংকট ধৈর্য নিয়ে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, এ দুর্যোগকালীন সময়ে প্রচুর পরিমাণে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।বন্যায় কোনো মানুষ না খেয়ে থাকবে না, পানিবন্দি সকল মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু আহাদ মিয়া জানান, সদর উপজেলার ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া আরও ১১টি বিদ্যালয়ে পানি ছুই ছুই অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক,ব্রিজ,কালভার্টে ফাটল দেখা দেয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে সদরপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি সড়ক পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। পানিবন্দি হয়ে উপজেলার চরনাছিরপুর, দিয়ারা নারিকেল বাড়ীয়া, চরমানাইর ও আকোটেরচর, ঢেউখালীর আংশিক এলাকা প্লাবিত রয়েছে।

অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে রাস্তা-ঘাট ভেঙে উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বানভাসি মানুষের মাঝে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলায় পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ওইসব এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। আবারও তারা নতুন করে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ফলে ঘর-বাড়িতে বন্যার পানি ওঠায় পানিবন্দি পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

সদরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মালেক মিয়া জানান, পানিতে প্লাবিত রয়েছে ২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে করোনাকালিন সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

দিয়ারা নারিকেল বাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন সরদার জানান, ইউনিয়নের প্রায় সকল পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এদের মধ্যে ২৩৩টি অসহায় পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

চরনাছিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো আক্কাছ আলী জানান, ইউনিয়নের প্রায় পরিবারগুলো পানিতে বন্দি রয়েছে। আমি প্রতিনিয়ত তাদের খোঁজখবর রাখাসহ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করছি। এ পর্যন্ত ২৫৫টি পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।

সদরপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার পূরবী গোলদার জানান, সরকারিভাবে ২৯ মেট্রিক টন চাল ও ৮০ হাজার টাকা ও ৪০০ প্যাকেট শুকনা খাবার রয়েছে। বন্যার্তদের মাঝে এসব খাদ্রসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

অপরদিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। চরাঞ্চলের প্রায় বসতবাড়ির ঘরের মধ্যে পানিতে সয়লাব হয়ে রয়েছে এবং চরাঞ্চলে প্রায় সব রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন হাট বাজার প্লাবিত হয়ে বন্যার্ত পরিবারের দুর্ভোগ তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এছাড়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির ফলে গাজীরটেক ইউনিয়নের প্রায় ৬৫ কি.মি. কাঁচা ও ইটের রাস্তা, চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ১১০ কি.মি. ও চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের ৫৫ কি.মি. রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন।

চরভদ্রাসন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম বাহাউদ্দিন জানান, উপজেলার ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ৪টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১টি দাখিল মাদরাসা প্লাবিত হয়েছে।