প্রজনন ক্ষমতা কমছে, ২১০০ সালে অর্ধেকে নামবে জনসংখ্যা

বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া ও জলবাযূর প্রভাবে মানুষের প্রজনন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতে কমছে জনসংখ্যা। শিশু জন্মের হার কমে গেলে সমাজে এর বিরুপ প্রভাব পড়বে। কোন কোন দেশে জনসংখ্যার অর্ধেকেরও নিচে নেমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০৬৪ সালের পর গর্ভধারণ এবং শিশু জন্মহার কমে যাওয়ার কারণেই মূলত এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে গবেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

চলতি বছরের মধ্যভাগে প্রকাশিত জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুসারে বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার ৩৮৩ জন। যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২ দশমিক ১১ শতাংশ। জনসংখ্যার বিচারে তাই বিশ্বের ৮ম জনবহুল দেশ বাংলাদেশ।

প্রজনন হার ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে ২১০০ সালের পর বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জনসংখ্যাই এখনকার তুলনায় অনেক কম থাকবে। কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন না হলে এ সময়ের মধ্যে স্পেন ও জাপানসহ ২৩টি দেশের জনসংখ্যা এখনকার অর্ধেক হয়ে যাবে বলেও গবেষকরা আশঙ্কা করছেন।

১৯৫০ সালেও একজন নারী জীবদ্দশায় গড়ে ৪ দশমিক ৭টি সন্তানের মুখ দেখতেন, যা ২০১৭ সালে ২ দশমিক ৪-এ নেমে এসেছে বলে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

প্রজনন হার আরও কমে ২১০০ সাল নাগাদ ১ দশমিক ৭ এ দাঁড়াতে পারে বলে ল্যানসেটে প্রকাশিত নিবন্ধে ধারণা দিয়েছেন গবেষকরা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীতে ২০৬৪ সাল নাগাদ মানুষের সংখ্যা ৯৭০ কোটিতে পৌঁছালেও তার ৩৬ বছর পরই এ সংখ্যা ৮৮০ কোটিতে নেমে যাবে।

অথচ জাতিসংঘ এক পূর্বাভাসে জানিয়েছিল, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা ৯৭০ কোটিতে উন্নীত হবে। এবং ২১০০ সালের দিকে জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১১০০ কোটিতে।

বিজ্ঞানীরা এ প্রজনন হার কমার পেছনে চাকরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের আগের ? তুলনায় বেশি পদচারণা এবং জন্মনিরোধক পণ্যের আধিক্যকে কারণ হিসেবে দেখছেন। গবেষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, জাপানের জনসংখ্যা এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ গিয়ে দাঁড়াবে মাত্র ৫ কোটি ৩০ লাখে।