ঘুম না হলে যা করবেন

বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২০

লাইফস্টাইল ডেস্ক: ইন্টারনেটের যুগে দিন দিন ঘুমের সমস্যা বেড়েই চলেছে। কয়েক বছর আগেই গ্লোবাল এপিডেমিকের তকমাও পেয়েছে! অথচ তা নিয়ে বেশির ভাগ মানুষেরই যেন কোনও হেলদোল নেই। শিশু থেকে বয়স্ক, বিশ্বে শতকরা প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ ঘুমের অসুখে আক্রান্ত। আর এই বিষয়ে সকলকে সচেতন করতে শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিশ্ব ঘুম দিবস পালন করা হয়েছে বিশ্বজুড়ে।

অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিন ২০০৮ সালে প্রথম ‘স্লিপ ডে’ পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে মার্চ মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার ওয়ার্ল্ড স্লিপ ডে পালন শুরু হয়েছে। ঘুমের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি ঘুম সংক্রান্ত নানান সমস্যা— অ্যাডিনয়েড, ইনসমনিয়া, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া, রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম, সোমনামবুলজিম সমেত আরও কিছু অসুখ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে।

হিসেব অনুযায়ী মানুষের জীবনের এক তৃতীয়াংশ ঘুমিয়েই কেটে যায়। সেই নিয়ে অনেকেই বিরক্ত। তারা না ঘুমিয়ে কাজের মধ্যে ডুবে থাকার চেষ্টা করেন। কেউ নেপোলিয়নের ১০ মিনিটের ঘুমের কথা বলেন। কেউ আবার ইন্দিরা গান্ধীসহ এমন অনেকের উদাহরণ দেন, যারা নাকি দিনে ঘণ্টা দু’-তিন ঘুমিয়েও দিব্যি সুস্থ ছিলেন। কিন্তু এই ধারণা যুক্তিহীন। বরং নিয়ম করে গভীর ঘুম না হলে নানান শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

কম ঘুমানো নানা ক্ষতি

কম ঘুমোলে ডিপ্রেশন বাড়ে, মনঃসংযোগ কমে যায়। অফিসের কাজ হোক বা অন্যান্য পেশাদার কাজে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। পারফরম্যান্স খারাপ হয়। ছোটরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে। রেজাল্ট খারাপ হতে শুরু করে।

১. বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী, এমনকি পরিবারের লোকজনদের সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। ধৈর্য্য কমে যায়। মেজাজ চড়ে যায়।

২. দিনের পর দিন কম ঘুম হলে ক্ষিপ্রতা কমে যায়।

৩. বেশির ভাগ স্লিপ ডিজঅর্ডার সারানো যায়। কিন্তু এক-তৃতীয়াংশের কম সংখ্যক মানুষ এই সমস্যার জন্য কোনও বিশেষজ্ঞের কাছে যান।

৪. রোজ সাত-আট ঘণ্টা ঘুম জরুরি। ছোটদের আরও বেশি ঘুম দরকার।

৫. ঘুমের মধ্যে গ্রোথ হরমোন বেশি নিঃসৃত হয়। তাই বাচ্চারা কম ঘুমোলে তাদের বাড়বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না।

৬. প্রতি দিনের ঘুম আমাদের রোজকার ওয়্যার অ্যান্ড টিয়ার মেরামত করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও মন ভাল রাখতে সাহায্য করে।

৭.ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা, অর্থাৎ স্লিপ অ্যাপ্নিয়া থাকলে উচ্চরক্তচাপ, হার্টের অসুখ, আচমকা হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

৮. প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪ জনের স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে। স্লিপ টেস্ট করে এই সমস্যা সম্পর্কে জানা যায়। রোগ ধরা পড়লে সি-প্যাপের সাহায্যে সমস্যার সমাধান করা হয়।

ঘুম বাড়াবেন যেভাবে

• বিছানায় যাওয়ার অন্তত দু’ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিতে হবে।

• রাত্রে বেশি পানি খাওয়া যাবে না। তা হলে বার বার বাইরে যাওয়ার জন্য ঘুম ভাঙবে।

• ঘুমোতে যাওয়ার ৬ ঘণ্টা আগে থেকে চা, কফি, সিগারেট পান থেকে বিরত থাকুন। এসব খেলে ঘুম আসতে দেরি হয়। মাঝখানে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ারও ঝুঁকি থাকে।

• সকাল-সন্ধ্যে কিছুটা ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ করলে ভাল ঘুম হয়। তবে ঘুমোতে যাওয়ার সময় ব্যায়াম করবেন না।

• ঘুমনোর চার ঘণ্টা আগে মিষ্টি বা বেশি মশলাদার খাবার খাবেন না।

• বিছানাকে কেবল ঘুমনোর জায়গা হিসেবেই ব্যবহার করুন, ওয়ার্কস্টেশন অথবা আড্ডার জায়গা করে তুলবেন না। বরং ঘুমোতে যাওয়ার সময় হালকা গান শুনতে পারেন কিংবা পছন্দের বই পড়তে পারেন।

• ঘুম কম হলে বা না হলেই ঘুমের ওষুধ কিনে খাবেন না। ঘুমোতে যাওয়ার আগে হালকা সুতির পোশাক পরে নিন। টাইট পোশাক পড়লে ঘুমের অস্বস্তি হয়। ঘুম না এলে কেন ঘুম হচ্ছে না সেই ভেবে দুশ্চিন্তা না করে বরং বিছানা ছেড়ে উঠে পরুন। আবার ঘুম এলে শুতে যান।

• দু’-এক দিন ঘুমের সমস্যা হতেই পারে। কিন্তু যদি মাসখানেক ধরে ঘুমের অসুবিধে চলতে থাকে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।