তেঁতুলিয়ায় সেতু নির্মাণের ১০ দিন পর ভেঙ্গে যাওয়ার অভিযোগ

সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০

ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের শিবচন্ডি গ্রামে স্থানীয়দের যোগাযোগের একমাত্র কালভার্ট সেতু নির্মাণের দশ দিন পরই এক অংশ ভেঙ্গে গিয়েছে। এতে করে আতঙ্কে পরে স্থানীয়রা। এ নিয়ে তেতুঁলিয়া উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবর গত ১১ জুলাই (শনিবার) নতুন করে ঐ কালভার্ট সেতু নির্মানের দাবী করে লিখিত অভিযোগ করেছে গ্রামবাসি।

লিখিত আভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কালভার্ট সেতু নির্মানবাবদ এক লাখ টাকা বরাদ্দ হলে কালভার্ট সেতুটির নির্মান কাজ শুরু হয় দেবনগড় ইউনিয়নের শিবচন্ডি গ্রামে। কিন্তু নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে কালভার্ট সেতুটির নির্মান কাজ শুরু করলে এলাকাবাসীরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা দেবনগড় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও প্রকল্প স্কীম বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক কে নির্মান সামগ্রী পরিবর্তন করতে বলায় উল্টো তারা এলাকাবাসীকে ধমক দেয় এবং ঐসব নির্মান সামগ্রী দিয়ে কালভার্ট নির্মান কাজ সমাপ্ত করে। পরে নির্মান কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর গত ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) কালভার্ট সেতুটির উপরের অংশে ভেঙ্গে পরে।

সরেজমিনে ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কালভার্ট সেতুটির উপরের অংশ ভেঙ্গে গিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভাঙ্গা কালভার্ট দেখতে আসা উৎসুক জনতা।

স্থানীয়রা জানায়, আমরা প্রথমেই সতর্ক করেছিলাম নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কালভার্ট সেতুটি নির্মান হচ্ছে কিন্তু ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম আমাদের কথার মুল্য দেয়নি।

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানায় আসলে কালভার্টটির উপর দিয়ে ট্রাক্টর যাওয়ায় উপরের কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে। কালভার্ট সেতুটি সংস্কার করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক জানান কালভার্টটি নির্মান বাবদ এক লাখ টাকা ব্যায় ধরা হলেও এখন পর্যন্ত কালভার্ট নির্মানে এত টাকা খরচ হয়নি। গ্রামবাসীরা এখনো নির্মান বাবদ কুড়ি হাজার টাকা প্রদান করেনি।

বিআরডিবি এর উপ পরিচালক শামসুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত আমি কালভার্ট ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়টি এখন পর্যন্ত আমাকে কেউ বলেনি। আমি তেতুঁলিয়া উপজেলা আরডিও এর মাধ্যমে তদন্ত করে কালভার্টটি সংস্কার এর ব্যবস্থা করবো।

এ বিষয়ে তেতুঁলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, কালভার্ট ভাঙ্গায় এলাকাবাসীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। বালুর গাড়ি যাওয়ার কারণা নতুন ওই ব্রিজটি কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আমরা তা ঠিক করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। তবে ওই ব্রিজ দিয়ে বড় ধরণের কোন গাড়ি গেলে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।