তিস্তার পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপরে: নিরাপদ আশ্রয় নিতে মাইকিং

সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০

ভারত থেকে ধেয়ে আসা ভয়াবহ ঢলের পানি প্রবাহ তিস্তা নদীতে প্রবেশ করছে। রবিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তিস্তা ব্যারাজ নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবহিত হচ্ছে।

নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, এটি রাত নাগাদ বিপদসীমার আরও ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এদিকে জলধারার ভয়াবহ ঢলের হাত হতে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র নিয়ে তিস্তা অববাহিকার মানুষজন নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সূত্র মতে ভারত গজলডোবার মাধ্যমে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ প্রতি সেকেন্ডে দুই হাজার ৪৫৭ কিউসেক পানি ছেড়েছে। সূত্র আরও জানায়, প্রতি ২০ মিনিটে পানি ছাড়া হয় প্রায় সাড়ে ২৯ লাখ কিউসেক।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নীলফামারীর ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা এবং লাল সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের ফাড ফিউজ (ফাডবাইপাস) এলাকাটি কর্মকর্তারা নজরদারী করছে। তিস্তা ব্যারাজের ফাড ফিউজ এলাকার উজান ও ভাটি এলাকায় বসবাসকৃত পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, রবিবার দুপুর ১টায় ভারতের তিস্তা নদীর দো-মহনী পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমা ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে ধেয়ে আসছে। পাশাপাশি সেখানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ভারতের এই পয়েন্টে গতকাল শনিবার বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে তিস্তার পানি ধেয়ে আসায় রাত ১২ টায় বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার সর্ব্বোচ ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এরপর ভারতে পানি কমে এলে রবিবার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা ৩টায় ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ও হু-হু করে উজানের ঢল ধেয়ে আসছে।

সূত্র মতে, বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্ট হতে উজানে ভারতে তিস্তার দো-মহনীর দুরত্ব ৬৫ কিলোমিটার ও ভারতের গজরডোবার দুরত্ব ১২০ কিলোমিটার। ভারতের পাহাড়ে ও সমতলের প্রচুর বৃষ্টিপাত ও গজল ডোবার জলকপাট খুলে দেওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি এ ৮৮/৯৬ অথবা ৯৮ সালের মতো হতে পারে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় বলেন, উপজেলার সকল কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে কয়েকভাবে টিম গঠন করে প্রতিটি ইউনিয়নে মনিটরিং করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা তাদের স্ব স্ব এলাকায় নজরদারী বৃদ্ধি করেছেন।