বাংলাদেশকে সুবিধা দেয়ার ঘোষণা চীনের ‘ফাঁদ’: ভারতীয় গণমাধ্যম

রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লাদাখে দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষের ফলে প্রতিবেশি দেশগুলোকে নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের একটি চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এই তালিকায় অন্যতম বাংলাদেশ। উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশকে সম্প্রতি ঋণ সুবিধা ও শুল্কমুক্ত পণ্য রফতানি সুযোগও অন্যতম।

তবে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশকে দেয়া এসব সুবিধা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা এসব প্রতিবেদনে নানা ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

এবার এসব সুবিধা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের দ্য ইকোনমিক টাইমস।

শনিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন বাংলাদেশকে যে বাণিজ্য ছাড় দেয়ার কথা বলেছে, সেটা আসলে বাংলাদেশের জন্য একটা ‘দ্বৈত বাণিজ্য ঘাটতি’ এবং তাকে একটা ‘ঋণের ফাঁদে’ ফেলে দেয়া।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীন বাংলাদেশকে যে ধরণের শুল্কমুক্ত পণ্য সুবিধা দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে, সেটা আসলে একটা কাগুজে ঘোষণা মাত্র। কারণ বেইজিং এসব ক্ষেত্রে কঠোরভাবে রুলস অব অরিজিন মেনে চলে। সুতরাং তার এই ছাড় দেয়ার ঘোষণা কাগজেই থেকে যাবে।

পত্রিকাটি লিখেছে, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটি তথাকথিত কূটনৈতিক বিজয় দেখছে বাংলাদেশে। কিন্তু বাংলাদেশ একটা প্রতিশ্রুতিশীল অর্থনীতির দেশ। তার এই বিজয়ের ফলে বাংলাদেশ পরিণামে দুর্দশাগ্রস্ত হতে পারে। এভাবে দেশটিকে ঝুঁকিতে ঠেলে দিয়েছে। চীনা বাণিজ্য বাংলাদেশকে একটা ’ডুয়াল–ডেফিসিট’ এবং ‘ডেপ্ট ট্রাপের’ মধ্যে ফেলে দিতে পারে।

প্রতিবেদনে শ্রীলঙ্কার দেয়া চীনের ঋণ সুবিধ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এর ফলে বেইজিং আরোপিত শর্তগুলো ঢাকা সহজে গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু ঢাকার উচিত হবে শ্রীলংকার অবস্থা থেকে শিক্ষা নেয়া। কারণ কলম্বো বাধ্য হয়েছিল, তার হাম্বানতোতা সমুদ্র বন্দর ৯৯ বছরের জন্য বেইজিংকে ইজারা দিতে।

আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে বন্দর, নদী, রেল ও মহাসড়ক দিয়ে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যা শুধু ভারতীয় বাজার নয়, তার পক্ষে ভুটান এবং নেপালকে যুক্ত করা সম্ভব। সরকারগুলো ১৯৬৫ পূর্ব রেল সংযোগ পুনরুজ্জীবনে এক মত হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার আরও কানেক্টিভিটির যত লিংক রয়েছে, সেগুলো পুনরুজ্জীবনেও রাজি হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশে এর আগে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে রাজি হয়েছে। যাতে তারা বাণিজ্য প্রসারিত করতে পারে। বাংলাদেশ এর ফলে ভুটানে রফতানি করতে পারবে, উত্তর-পূর্ব ভারতে কারগো পাঠাতে পারবে।

ভারত এবং চীন বাংলাদেশকে কি সুবিধা দিয়েছে, তার একটা তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। অবশ্য এতে চীন কি কি দিয়েছে, সেই তালিকা নেই।