করোনা ঠেকাতে বিয়েও বন্ধ করল ইরান

রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রাণঘাতী করোনার বিস্তার রোধে বিয়ে ও লোক সমাগম হয় এমন সব সামাজিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করছে ইরান। শনিবার (১১ জুলাই) দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধের আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্টের এই আহ্বানের পরপরই পুলিশ রাজধানী তেহরানে বিয়ে এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মত সব ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে।

রুহানি বলেন, ‘‘এটা উৎসব বা সেমিনার আয়োজনের সময় নয়। আমাদের অবশ্যই দেশজুড়ে অনুষ্ঠান আয়োজন এবং গণজমায়েত বন্ধ করতে হবে। হোক সেটা অন্ত্যষ্টিক্রিয়া, বিয়ে বা পার্টি।” এ সময় চলতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও স্থগিত হতে পারে বলে জানান তিনি।

চীনের উহান শহর থেকে গত বছর ডিসেম্বরে বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর মহামারির বিস্তার রোধে কিছুদিন লকডাউনে ছিল ইরান। কিন্তু অর্থনীতি বাঁচাতে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে দেশটির সরকার ধীরে ধীরে লকডাউন শীথিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে অর্থনীতির চাকা কিছুটা সচল হলেও ভাইরাসের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করে।

শনিবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশে কোভিড-১৯ মহামারিতে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৬৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট আক্রান্ত দুই লাখ ৫৫ ‍হাজার ১১৭ জন।

ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন থেকেই দেশে দ্বিতীয়বারের মত করোনা ভাইরাস সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। ভাইরাসের বিস্তার রোধে যদি এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তবে এই মহামারিতে ইরানে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত দেশটির টাস্ক ফোর্স কমিটি।

টাস্ক ফোর্স কমিটির উপদেষ্টা হোসেইন কেনাতি বলেন, ‘‘ভাইরাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ শুরু হতে যাচ্ছে, যেটি আরো বেশি প্রাণঘাতী হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি আগে থেকেই ভঙ্গুর হয়ে আছে, ফলে দীর্ঘ লকডাউনের ধাক্কা সামলানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ‘‘সব থেকে সহজ উপায়, সব কিছু বন্ধ করে দেওয়া। কিন্তু তখন ক্ষুধা ও বেকারত্বের কারণে জনগণকে রাস্তায় নেমে আসতেই হবে।”