বন্যা উপদ্রুত মানুষের সাহায্যে সরকারের কোনও তৎপরতা নেই : রিজভী

শনিবার, জুলাই ১১, ২০২০

ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে না সরকার। অসংখ্য মানুষ এখন পানিবন্দি হলেও বন্যাকবলিত মানুষদের নিয়ে সম্পূর্ণরূপে নির্বিকার সরকার। বন্যা উপদ্রুত মানুষের সাহায্যের জন্য সকারের কোনও তৎপরতা নেই।’

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি। ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সিলেট ও সুমানগঞ্জ জেলায় শত শত কিলোমিটার সড়ক বিপর্যস্ত হয়ে কয়েকশো কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁদপুর শহরেও এখন বিপজ্জনক অবস্থা। এছাড়াও ভারতের গজলডোবায় সবকটি গেট খুলে দেয়ায় এবং বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে তিস্তার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল- কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধায় হু হু করে বন্যার পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উজানের পানিতে ফরিদপুরসহ দেশের মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতেই করোনার অভিঘাতে বিপর্যস্ত দেশ, তার ওপর ধেয়ে আসার বন্যার কবলে জনজীবন এখন চরম ভোগান্তির মধ্যে। অবিরাম বর্ষণে গরিব মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গৃহপালিত গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে মানুষ।’

অবিলম্বে বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষকে বাঁচাতে দেশবাসীকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দুর্গত এলাকায় আওয়ামী জাহেলিয়াতের এই অন্ধকার সময়ে ক্ষমতাসীন দলের সরকার ও প্রশাসনের প্রশ্রয়ে জেকেজি হেলথ কেয়ার কিংবা আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য শাহেদ চক্রের দৌরাত্ম্য শুধুমাত্র নগদ অর্থ কেলেঙ্কারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এরা মানুষের জীবন নিয়েই ব্যবসা শুরু করে দিয়েছিলো করোনা পরীক্ষার নকল সনদ দিয়ে। তাদের এই ব্যবসার বলি হচ্ছে জনগণ।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতি-অনিয়ম-চুরি-বাটপাপি যেভাবে নির্বিঘ্নে অবাধ হয়েছে আওয়ামী শাসন ব্যাতিরেকে কখোনোই এমন ছিল না। শাহেদরাই বর্তমান আওয়ামী শাসনের নমুনা। করোনার আঘাতে মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত। জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে কাতরাতে কাতরাতে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছেন তারা। প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। কতো মানুষ মারা যাচ্ছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নিয়েও জনমনে সন্দেহ রয়েছে। এই দুর্বিসহ সংকটের মধ্যেও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় করার নামে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি দলের লোকেরা।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দুর্নীতির সঙ্গে সরকার ও প্রশাসনের যোগসূত্র ছিল প্রায় ওপেন সিক্রেট। শুধু তাই নয়, এইসব দুর্নীতিবাজরা ক্ষমতাসীন দলের পদ-পদবীধারী নেতা হওয়ায় সখ্যতা দেখা গেছে প্রভাবশালীদের সঙ্গে। টকশো’তে এইসব দুর্নীতিবাজরা বিরোধীদলের মুন্ডুপাত করে আর সরকারের পক্ষে জিগির তুলে। এখানেই শেষ নয়, ভোট চুরি করে নয়, এই সরকারটি গঠিতও হয়েছে জনগণের ভোট ডাকাতি করে। সুতরাং এই সরকার ‘চোর’ নয়, এই সরকার ‘ভোট ডাকাতির সরকার’।’

রিজভী বলেন, ‘গত এক দশকের বেশি একটানা ক্ষমতায় থেকেও নিশিরাতের এই সরকারটির নিজেদের সাফল্যের কিছু নেই বলেই এখনও তাদেরকে অতীতের কাসুন্দি ঘেটে নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইতে হয়। একটানা একযুগের বেশি ক্ষমতায় থাকার পর একটি সরকারের জন্য বর্তমান ব্যর্থতা ও অধঃপতনের এমন করুণ পরিণতি যে কতটা লজ্জার সেই বোধ এই সরকারের আছে বলেও কেউ মনে করে না। সুতরাং, দেশে কারা ডাকাত, কারা ধোকাবাজ, কারা দুর্নীতিবাজ, কারা দুর্নীতিতে লিপ্ত, কোন সরকারের আমলে দুর্নীতিবাজদের উত্থান হয়েছে এটা দেশের মানুষ জানে। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব নিজেই আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তিনি পেয়েছেন ‘চোরের খনি’। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে সেই ‘চোরের খনি’ এখন ‘ডাকাতের খনি’তে রূপান্তরিত হয়েছে। এটাই হলো আওয়ামী লীগ সরকারের সুমহান কীর্তি।’

ছাত্রদল নেতাকে ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘নোয়াখালী জেলাধীন বেগমগঞ্জ থানার চন্দ্রগঞ্জ আলাইপুর ইউনিয়নে গুম হওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. টিটু হায়দারকে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার পরিবারের কাছে ফেরত দেয়নি। সবাই জানে যে টিটু হায়দার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেই আছে। কিন্তু তারা এখনো পর্যন্ত টিটুকে হস্তান্তর করছে না। তার পরিবার গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে অপেক্ষা করছে। অবিলম্বে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য আমি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’