চার শহরে পশুর হাট না বসানো ও ঈদের ছুটিতে চলাচল বন্ধের সুপারিশ

শনিবার, জুলাই ১১, ২০২০

ঢাকা : করোনাভাইরাসের হটস্পট হিসেবে বিবেচিত ঢাকা,নারায়ণগঞ্জ,গাজীপুর ও চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় পরামর্শক কারিগরি কমিটি।

আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কারিগরি কমিটির ১৪তম অনলাইন সভায় সরকারের কাছে এই সুপারিশ করার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।

সভায় ঈদ-উল-আজহার ছুটিতে আলোচিত চার শহর থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যাতায়াত বন্ধ রাখারও প্রস্তাব করা হয়।

কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা.মোহাম্মদ সহিদুল্লা ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা.মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটি করোনা পরীক্ষা প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া ও পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনে এন্টিজেনভিত্তিক কিট অনুমোদনের জন্য ঔষদ প্রশাসন অধিদপ্তরকে সুপারিশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে জাতীয় পরামর্শক কমিটি কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। ভাইরাসটির সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ অবস্থায় ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবাধ জীবনযাত্রায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।জাতীয় পরামর্শক কমিটি ঢাকা ও তার আশেপাশের এলাকায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পরামর্শ দেয়।

পশুর হাট বসার ক্ষেত্রে জাতীয় কারিগরি পরামর্শ কমিটির সুপারিশ করেছে,ঢাকা,নারায়ণগঞ্জ,গাজীপুর ও চট্টগ্রামে যেন পশুর হাট স্থাপন না করা হয়।এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পশু কেনাবেচার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।এছাড়া অন্যান্য জায়গায় সংক্রমণ প্রতিরোধ নীতিমালা পালন সাপেক্ষে কোরবানি পশুর হাট বসানো যেতে পারে।

কোরবানি পশুর হাট স্থাপন ও পশু জবাই এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মও অনুসরনের কথা জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

সেগুলো হলো-কোরবানির পশুর হাট শহরের অভ্যন্তরে স্থাপন না করা। কোরবানি পশুর হাট খোলা ময়দানে হতে হবে, যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। বয়স্ক ব্যক্তি (৫০ বয়সোর্ধ্ব) এবং অসুস্থ ব্যক্তি পশুর হাটে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।পশুর হাটে প্রবেশ ও বাহির এর পৃথক রাস্তা থাকতে হবে।পশুর হাটে আগমনকারি সকল ব্যক্তির মাস্ক পরিধান করা বাধ্যতামূলক।কোরবানি পশু জবাই বাড়ীতে না করে শহরের বাহিরে সিটি কর্পোরেশনের দ্বারা নির্ধারিত স্থানে করতে হবে।অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমে বাড়ীর বাহিরে কোরবানি দেয়া সম্ভব হলে,তা করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এছাড়াও পরামর্শক কমিটির সভায় করোনার পরীক্ষায় পরীক্ষাগারের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো, পরীক্ষাগারগুলোতে বিভিন্ন পর্যায় থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ দেওয়া,নমুনা দেয়া থেকে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত সময় কমানো,সাশ্রয়ী মূল্য করোনা পরীক্ষার কিট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে একটি সরবরাহকারীর উপর নির্ভর না করে একাধিক সরবরাহকারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করার সুপারিশ করা হয়।