সাহেদকে ধরতে নতুন কোনো এলিট ফোর্স লাগবে?

বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০

ঢাকা : নানা অভিযোগে সিলগালা করে দেওয়া রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদকে নিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠার পর এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আলোচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ফেসবুক ভিডিও বার্তায় তিনি সাহেদকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এই আইনজীবী বলেন, ‘এই করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশটাকে পুরা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যিনি, এই সাহেদ এখনো কেন আইনের আওতায় আসেন নাই? বাংলাদেশের বড় বড় ক্রিমিনালকে যেখানে দুই ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা, আধা দিনের মধ্যে ধরা যায়, এই সাহেদ সাহেবকে ধরকে নতুন কোনো এলিট ফোর্স লাগবে কি না, আমি এটা সরকারের কাছে জানতে চাই।’

প্রভাবশালীদের সঙ্গে শাহেদের ছবির বিষয়ে সুমন বলেন, ‘এই শাহেদ এমন কোনো ভিআইপি নাই যার সাথে তার ছবি নাই। এখন যদি তাকে ধরা না হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকে বলাবলি করছে যে, তিনি কোনো ভিআইপির বাসায় আত্মগোপনে আছেন কি না, নাকি তাকে আত্মগোপনে রাখা হয়েছে। এটার যদি জবাব দিতে না পারেন, তবে এর দায় কিন্তু এই সরকারকেই নিতে হবে। কারণ, আপনারা জানেন যে, গতকাল এই শাহেদের মতো লোকের কারণে ইতালিতে প্রায় ১৯০ জন বাংলাদেশিকে নামতে দেওয়া হয়নি। কালকে ইতালির পত্রিকার হেডলাইন ছিল এই করোনার সার্টিফিকেট জালিয়াতি। এই জালিয়াতির মাধ্যমে পুরা জাতিকে কলঙ্কিত করে ফেলেছে এই সাহেদের মতো লোক।’

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাহেদের সম্পর্কের বিষয়ে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘এই সাহেদ দাবি করে, সে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সদস্য, তার নামও একটা লিস্টে দেখলাম। জানি না এটা কতখানি সত্য, তবে আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথেই তার বেশি ওঠা-বসা ছিল। কারণ সে ক্ষমতার আশেপাশেই ছিল।’

দেশের এই আলোচিত আইনজীবী বলেন, ‘আমি আশ্চর্য হই, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুমে পায়ে পা তুলে সচিবের সামনে এবং আমাদের স্বাচিপের সভাপতি ইকবাল আর্সনালের পাশে বসে সে যেভাবে… এই ছবিই বলে দেয় অনেক কিছু। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কথা তো কম বলি নাই, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে পুরা দুই নম্বর মন্ত্রণালয় এরা আবার প্রমাণ করছে। কারণ একটা হসপিটাল যার ছয় বছর ধরে লাইসেন্স নাই এরকম একটা হসপিটালকে যখন মন্ত্রণালয় সরকারিভাবে বৈধতা দেয়, তার সাথে যখন চুক্তি করে, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বইসা থাইকা যখন চুক্তি করেন তখন আমি বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আর কত সময় ওয়েট করবেন, এরপরও কি নিশ্চত হইতে পারেন না যে, এরা আপনারে ডোবাবে এবং এই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যর্থ এবং দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে বিবেচিত হবে।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘এই করোনাকালীন সময়ে সারা পৃথিবী যখন একত্রিত হচ্ছে এই করোনাকে মোকাবিলা করার জন্য, আর আমাদের এই মন্ত্রণালয় যারা আমাদেরকে সহেযোগিতা করার কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এরা এখনো চুরি চামারি করে যাইতেছে। এর চেয়ে বেশি যদি সহ্য করেন মানুষ আপনাকেও ভুল বুঝবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আর সহ্য করা মনে হয় ঠিক হবে না।’

সুমন বলেন, ‘আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলছি, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনার সাথেও তার ছবি আছে, অন্তত আপনি তাকে যত তাড়াতাড়ি পারেন, আইজিপি মহোদয়ের সঙ্গেও তার ছবি আছে, আপনারা যদি তাকে তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে না আসেন, তাইলে মনে হবে আপনারাই তাকে পেট্রোনাইজ করতেছেন। কারণ মানুষের মুখ তো আপনি আটকাইতে পারবেন না।’

সুপ্রিমকোর্টের এই আইনজীবী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমরা করি এর মানে এই না যে, মানুষের মুখ সবসময়, যে কথা বাস্তব, যে কথা মানুষ বিশ্বাস করে এই কথার বিরোধিতা করা ঠিক হবে না। এইটা বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে শেখায় নাই, বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শ যদি সত্য কথা হয়, যদি মাইনরিটি হয় সেটাও মানতে হবে এটা বঙ্গবন্ধুর কথা।’

লাইভের শেষ দিকে ব্যরিস্টার সুমন বলেন, ‘আমি পরিশেষে বলব, সাহেদের এই কলঙ্ক আওয়ামী লীগ এবং সরকার এবং বাংলাদেশে থেকে মিটায়ে দিতে হবে। আর এর মধ্যে যত স্ট্রং অ্যাকশন নেবেন মানুষের বিশ্বাসের জায়গা তত দখল করতে পারবেন। আর সাহেদকে ধরতে যারা যত দেরি করবেন মনে হবে সাহেদের থেকে ভাগ বাটোয়ারা তারা পাইসেন। আর যতি প্রমাণ করতে পারেন যে ভাগ বাটোয়ারা আপনারা পান নাই অথবা এই পাপের সাথে আপনারা যুক্ত না, তাইলে যত তাড়াতাড়ি পারেন তাকে অ্যারেস্ট করে মানুষের সামনে নিয়ে আসেন। নাইলে সাধারণ মানুষের সাথে আমাকেও বলতে হবে আপনারা বেশিরভাগ মানুষই দুর্নীতিগ্রস্ত।’