আ.লীগকে বারবার ক্ষমতায় আনতেই দল নিবন্ধন সংশোধনের উদ্যোগ ইসির: ফখরুল

বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০

ঢাকা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনের সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার উদ্দেশ হলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বারবার ক্ষমতায় আনা। ওয়ান-ইলেভেন থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সারাবিশ্বে এখন করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত। মানবিক দুর্যোগ চলছে। মানুষ বাসা থেকে বের হতে পারছে না। এ অবস্থায় ইসি উপনির্বাচন করতে চাইছে।

তিনি বলেন, দেশে এক দশকের বেশি সময় ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে। এটার নাম দেওয়া হয়েছে হাইব্রিড রেজিম। এতে ইসি ও নির্বাচনের দরকার আছে।

মহাসচিব বলেন, ইসি বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছে। সেনাবাহিনীকে অকার্যকর করেছে। এই কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ আচরণ পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা গুম হয়েছেন। কতো নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে ৩৫ লাখ মানুষ আসামি হয়েছে। খালেদা জিয়াকে জেল খাটতে হয়েছে, তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

ইসি ভালো কিছু করবে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন ঠিকভাবে করতে না পারলে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে সরকারকে বিদায় করতে হবে। এ জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এরপর নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়মের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, টিভিতে দেখলাম হাসপাতালের মালিকের সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ওঠাবসা। সরকারের মদদে রিজেন্টের মালিক এসব অপকর্ম করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ডকট্রিন অব নেসেসিটির কথা বলে ওয়ান-ইলেভেনের সরকার দুই বছর ছিল। এখন কেন করা যাবে না।

করোনার মধ্যে উপনির্বাচনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এখন ভোট হলে যারা ভোট দিতে যাবে তাদের করোনা সংক্রমণ হতে পারে। সরকার বলছে জনগণকে ঘরে থাকতে আর নির্বাচন কমিশন জনগণকে ঘরের বাইরে আনতে চাইছে।

বিএনপি কমিউনিকেশন সেলের পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বপনের পরিচালনায় ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন’ শীর্ষক আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বাম জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ, সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব আবদুর রশীদ প্রমুখ।