সেনা সরালেও চীন সীমান্তে দ্রুত ব্রিজ-টানেল নির্মাণের ঘোষণা ভারতের

বুধবার, জুলাই ৮, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দীর্ঘ দুই মাসের উত্তেজনার পর সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে দুই দেশ। এর মধ্যেই চীন সীমান্তে দ্রুত সড়ক, ব্রিজ ও টানেল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এ ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, লাদাখে চীনা বাহিনী খানিকটা পিছিয়ে যাওয়ার মধ্যেই সীমান্তে পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন রাজনাথ। ওই বৈঠকে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের (বিআরও) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরপাল সিং-সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশটির সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বৈঠকটি ঘণ্টাখানেক ধরে চলে। সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নে কী কাজ চলছে, কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান বিআরও প্রধান।

ওই পর্যালোচনা বৈঠকের পরই টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে রাজনাথ বলেন, সীমান্তে সড়ক, ব্রিজ ও টানেল বানানোর কাজে আরও গতি আনা হবে। বর্তমানে পরিকাঠামো গঠনের কী কী কাজ চলছে, সেটি রিভিউ করেছেন। এতে বিআরও-এর কাজের প্রশংসাও করেন তিনি। তবে পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।

ভারত বলছে, চীন লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে প্রথম থেকেই বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। পূর্ব লাদাখে গালওয়ান নদীর ওপর তৈরি ৬০ মিটারের ব্রিজ তৈরির বিরোধিতা করেছিল বেইজিং। এ নিয়ে সীমান্ত বিবাদ চরমে উঠে। তবে চীনের আপত্তি সত্ত্বেও সেই ব্রিজের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখে ভারত।

গত মাসে গালওয়ান উপত্যকায় চীনা বাহিনীর হাতে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহতের কয়েক দিনের মাথায় সেই ব্রিজের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, এর ফলে সীমান্তের কাছে যেমন ভারতীয় সেনা সহজেই পৌঁছাতে পারবে, তেমনই দারবুক থেকে দৌলত বেগ ওল্ডি পর্যন্ত ২৫৫ কিলোমিটার কৌশলগত রাস্তা সুরক্ষিত হয়েছে।