লঞ্চডুবির ঘটনায় ২০ দফা সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় ২০ দফা সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সদরঘাট থেকে ভাটিতে ৭/৮ কিলোমিটার অংশে অলস বার্দিং উঠিয়ে দেওয়া, সদরঘাটের কাছে কোনও টার্মিনাল না রাখাসহ ২০ দফা সুপারিশ দিয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সচিবালয়ে নৌ-পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন। এসময় তিনি জানান, দুর্ঘটনা কেন ঘটলো তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করছি না, পুলিশী তদন্ত শেষ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এই ঘটনা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

আর, সদরঘাট হতে ভাটিতে ৭/৮ কি.মি. অংশে অলস বার্দিং উঠিয়ে দিতে হবে, সদরঘাট টার্মিনালের পাশে কোন খেয়াঘাট রাখা যাবে না সহ ২০ দফা সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

২০ দফা সুপারিশের মধ্যে অন্যতম হলো:

> সদরঘাটের তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোন অলস লঞ্চ না রাখা

> লঞ্চ টার্মিনালের আশপাশে কোনও খেয়াঘাট রাখা যাবে না

> লঞ্চের ধারণ ক্ষমতার বেশি টিকিট বিক্রি করা যাবে না

> লঞ্চের সামনে-পিছনে সিসি ক্যামেরা রাখার বাধ্যবাধকতা

এছাড়া, পল্টুন ছাড়া নৌযান না রাখা, শিপ ইয়ার্ড এবং ডকইয়ার্ড তুলে দেয়া, খেয়াঘাট ওয়াইজ ঘাটের উজানে স্থানান্তরসহ কয়েকটি বিষয় সুপারিশ করা হয়।

এর আগে, গত ২৯ জুন রাজধানীর সদরঘাটের কাছে শ্যামবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে ‘এমভি ময়ূর-২’ এর ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমএল মর্নিং বার্ড’ পানিতে ডুবে যায়। সকালে মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে ঢাকার সদরঘাটের দিকে আসা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়। এই ঘটনায় এই পর্যন্ত ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লঞ্চ ডুবির ঘটনায় মন্ত্রণালয় ওই দিনই সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। মন্ত্রণালয়ের বেধে দেওয়া সাতদিনের সময় শেষে সোমবার এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।