অবিলম্বে সারা দেশে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব ২০ দলের

সোমবার, জুলাই ৬, ২০২০

ঢাকা : চলমান করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার প্রতিরোধে অবিলম্বে সারা দেশে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

সোমবার (০৬ জুলাই) দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান জোটের সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) ২০ দলীয় জোর্টের শীর্ষ নেতারা ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দেশের প্রত্যেকটি শ্রমঘন এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে কোভিড-১৯ পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনে এবং পরবর্তিতে সেগুলো সরকারি-বেসরকারি যৌথ মালিকানায় পরিচালনার জন্য ২০ দল প্রস্তাব করছে। সমাজের অর্থবান ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। ২০ দল মনে করে, এ ব্যাপারে সরকারকে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ও বন্ধুপ্রতীম বিভিন্ন রাষ্ট্র সহযোগিতা করতে পারে।’

‘থাইল্যান্ডের প্রয়াত রাজা, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মতো আমাদের দেশের মন্ত্রী-এমপি-জনপ্রতিনিধি-জননেতা-ঊর্ধ্বতন আমলারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হতো’ বলে উল্লেখ করেন এই ২০ দল নেতা। একইসঙ্গে কোবিড-১৯ সংক্রামণ পরীক্ষার ফি বাতিলের দাবিও জানান তিনি।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিট নিয়ে ‘অহেতুক সময়ক্ষেপ’, বিদেশ থেকে নিম্নমানের কিট, মাস্ক, পিপিইসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীতে দুর্নীতিতে ক্ষোভ প্রকাশও করেছে ২০ দল।

বিদ্যুত-গ্যাস-পানির বিল আদায় ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিতের দাবি জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘২০ দলীয় জোটের সভায় সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান যথা বিদ্যুত-গ্যাস-পানির বিল পরিশোধে বিপন্ন জনগণকে বাধ্য করার সরকারি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এইসব আদায় বিল আদায় স্থগিত ঘোষণা এবং কর্মহীন-দরিদ্র মানুষের জন্য বিল মওকুফ করার জোর দাবি জানানো হয়।’

বৈঠকের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘২০ দল বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যথাসম্ভব ঘরে থাকা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং ই-কমার্সের সুযোগের পাশাপাশি আত্মীয়-বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বহুল ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল চার্জের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছে।’

সংসদে পাস হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাখ্যান করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি, দেশীয় প্রতিষ্ঠান সিপিডিসহ আন্তর্জাতিক কিংবা দেশীয় প্রতিষ্ঠানের কোনও মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে যে বাজেট প্রণয়ন করা হলো তা দরিদ্র গণমানুষের কোনও কল্যাণ করবেন না। ধনবান এবং ক্ষমতাসীনদের স্বার্থরক্ষার এ বাজেট ২০ দল প্রত্যাখ্যান করছে।’

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পুনর্বাসনের সহায়তা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে ২০ দল।

একইসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের বিষয়ে ২০ দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাটকল বন্ধ করার ফলে পাটচাষিরা যে অনিবার্য ক্ষতির সম্মুখীন হবেন সেই ক্ষতি পূরণে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে ২০ দল।’

‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন ২০২০’ নামে নতুন আইনের খসড়া প্রণয়নে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগকে ‘অসময়োপযোগী’, ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং ‘উদ্দেশ্যমূলক’ হিসেবে অভিহিত করে এই উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানায় ২০ দল।

২০ দলীয় জোটের ত্রাণ তৎপরতা আরও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান নজরুল ইসলাম খান।

রবিবার রাতের ২০ দলীয় জোটের ভার্চুয়াল বৈঠকে জোটের ২২টি দলের মধ্যে ১৯টি দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তারা হলেন- বিএনপির নজরুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পারোয়ার, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, ইসলামী ঐক্যের এম এ রকীব, জমিয়তে উলামা ইসলামীর আল্লামা নুর হোসেনেই কাশেমী, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীব নেওয়াজ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের, এনডিপির আবু মো. তাহের, জাগপার খোন্দকার লুদফুর রহমান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম ও বাংলাদেশ ন্যাপের শাওন সাদেকী।