ধর্ষককে গ্রেফতার না করে একি করলেন সুন্দরী পুলিশ অফিসার!

রবিবার, জুলাই ৫, ২০২০

ঢাকা : জোড়া ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেফতার না করার বিনিময়ে মোটা অংকের অর্থ ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতের গুজরাটের এক নারী পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই পুলিশ অফিসারের নাম শ্বেতা জাদেজা। তিনি আহমেদাবাদের মহিলা থানার ইনচার্জ।

এ ঘটনায় শ্বেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যেকোনও সময় তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবলে বলা হয়, জিএপি কর্প সায়েন্স নামে একটি বেসরকারি সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেনাল শাহের বিরুদ্ধে সম্প্রতি থানায় নারী ধর্ষণের অভিযোগ করেন সংস্থাটির দুই নারী কর্মী।

এর আগে গেল মাসে এ ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী ওই সংস্থাটির সিকিউরিটি অফিসার কেনাল শাহর বিরুদ্ধে স্যাটেলাইট থানায় হুমকি দেয়ার পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

দুই ধর্ষণের অভিযোগের একটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় শ্বেতা জাদেজাকে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত কেনাল শাহকে গ্রেফতার না করে তার কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছেন তদন্তকারী ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা। এমনকি দাবি মতো টাকা না দিলে ২ নারী সহকর্মীকে ধর্ষণ ও নিরাপত্তা অফিসারকে হুমকি দেয়ার অভিযোগে ‘সামাজিকবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ’ (পিএএসএ) আইনের আওতায় মামলা করারও হুমকি দেয়া হয়।

কোনও ব্যক্তিকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য পুলিশকে আটক ও কারাগারে প্রেরণের ক্ষমতা প্রদানকে পিএএসএ অ্যাক্ট বলা হয়। সম্প্রতি শ্বেতার বিরুদ্ধে করা ক্রাইম ব্রাঞ্চের এফআইআরে এমনই অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা যায়, বছর চারেক আগে পুলিশে যোগ দেন শ্বেতা। সম্প্রতি কেনাল শাহের ভাই ভবেশ শাহকে থানায় তলব করে কেনালের কাছে ২৫ লাখ টাকা দাবি করেন শ্বেতা। টাকা না দিলে কেনালকে পিএএসএ অ্যাক্টে গ্রেফতার করারও হুমকি দেন তিনি।

এরপর ২০ লাখ টাকায় দুপক্ষের মধ্যে রফা হয়। পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে ঘুষের টাকা পৌঁছে দিকে ভবেশ শাহকে বলে দেন শ্বেতা। কথা মতো কেনাল শাহ শ্বেতার বলে দেয়া অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেন।

এর কয়েকদিন পরই কেনাল শাহকে থানায় ডেকে স্যাটেলাইট থানায় হওয়া ধর্ষণের অপর মামলায় গ্রেফতার এড়াতে তার কাছে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন শ্বেতা। সেটি শেষ পর্যন্ত ১১ লাখ টাকায় রফা হয়। একই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেন কেনাল শাহ।

একপর্যায়ে গত মাসে শ্বেতা জাদেজার বিরুদ্ধে ভবেশ শাহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এরপরই শ্বেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে ক্রাইম বেঞ্চ। তাকে যেকোনও সময় গ্রেফতার করা হতে পারে।