শেষ পোস্টে সুশান্তকে যা লিখেছিলেন সরোজ খান

শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০

বিনোদন ডেস্ক : মাধুরী দীক্ষিত, শ্রীদেবী, ঐশ্বরিয়ার মতো কিংবদন্তি নায়িকাদের ‘ড্যান্সগুরু’ বরেণ্য শিল্পী সারোজ খান বৃহস্পতিবার ৭২ বছরে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি শেষ পোস্ট করেছিলেন গত ১৪ জুন আত্মহত্যা করা বলিউড তারকা সুশান্তকে নিয়ে। কি লিখেছিলেন সরোজ খান সেই পোস্টে?

গত ১৪ জুন, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করেছিলেন সরোজ খান। তাতে লিখেন, “তোমার জীবনে কী এমন ঘটল যে, এতবড় পদক্ষেপ নিয়ে নিলে? এ ঘটনায় আমি হতবাক। তুমি বড়দের সঙ্গে কথা বলতে পারতে, যারা তোমায় ভালো পরামর্শ দিত।” তখন হয়তো তার জানা ছিল না, সুশান্তের পর তিনিও সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দেবেন।

গত ১৪ জুন সুশান্তের মৃত্যুর পর আর সকলের মতোই হতবাক হন বলিউডের ‘মাস্টারজি’। লম্বা ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সরোজ খান লিখেছিলেন, “আমি তোমার সঙ্গে কখনও কাজ করি নি। তবে বহুবার তোমার সঙ্গে দেখা হয়েছে। তোমার জীবনে কী এমন অঘটন ঘটলো? যে এত ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে। বড়দের সঙ্গে কথা বলতে পারতে, তারা তোমায় পরামর্শ দিতো, সাহায্য করতো।”

তিনি আরও লিখেন, “তোমার দিকে তাকিয়ে আমরা খুশি থাকতাম। ঈশ্বর তোমার আত্মাকে শান্তি দিক। আমি জানি না, তোমার বাবা, বোনদের উপর দিয়ে কী ঝড় যাচ্ছে। এই কঠিন সময়ে তাদের প্রতি সমবেদনা রইল। তোমার সিনেমার মধ্যে দিয়েই তোমায় ভালোবেসেছি, সবসময় ভালোবেসে যাব। শান্তিতে ঘুমাও।”

এরপরই গত ১৭ জুন শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে বান্দ্রার গুরুনানাক হাসপাতালে ভর্তি হন সরোজ খান। তার ডায়াবেটিসের সমস্যা ছিল। তার করোনা টেস্ট করা হলেও রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এর তিনদিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়েও দেওয়া হয়। তবে ২০ জুন অবস্থার অবনতি হলে ফের হাসপাতালে ভর্তি হন সরোজ খান। তবে এবার আর তার বাড়ি ফেরা হল না। ইরফান খান, ঋষি কাপুর, সুশান্ত সিং রাজপুতের মতোই বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তিনিও চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

১৯৫০ সালে মাত্র ৩ বছর বয়সে শিশু নৃত্যশিল্পী হিসেবে বলিউডে যাত্রা শুরু করেছিলেন সারোজ খান। এরপর ১৯৮৬ সালে ‘নাগিন’, ১৯৮৭ সালে ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’, ১৯৮৮ সালে ‘তেজাব’, ১৯৮৯ সালে ‘চাঁদনী’ ও ১৯৯০ সালে ‘থানেদার’ ছবিতে কোরিওগ্রাফি সারোজ খানতে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

১৯৪৮ সালের ২২ নভেম্বর মুম্বাই শহরে সারোজ খানের জন্ম। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য ভক্ত-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।