ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ঋণে সুপারিশ করবে না এফবিসিসিআই

শনিবার, জুন ২৭, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ পেতে কোনো ইচ্ছাকৃত খেলাপির পক্ষে সুপারিশ করবে না এফবিসিসিআই। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পক্ষেই প্যাকেজ ঋণের সুপারিশ করতে চায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

আজ শনিবার (২৭ জুন) ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ একথা বলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।

তিনি বলেন, প্যাকেজ বাস্তবায়নে অনেক ব্যাংক এগিয়ে আসলেও কিছু ব্যাংকের মধ্যে অনীহা দেখা যাচ্ছে। যেসব ব্যাংক প্যাকেজ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে না; ওই সব ব্যাংক থেকে সরকারি আমানত তুলে নেয়ার প্রস্তাব করছি। পাশাপাশি যারা সহযোগিতা করছে তাদের ট্যাক্সের সুবিধা দেয়া ও আমানত বাড়িয়ে দেয়া যায় কি না তা বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড সিএমএসএমই খাত। এখানে প্রায় ৮৪ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির অংশ। গত ১০ বছরের অনেকগুলো ব্যাংক এসেছে। তাদের বলা হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপে নিয়ে আসতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কাছে যেতে পারিনি। আবার এ খাতের উদ্যোক্তারাও ব্যাংকিং চ্যানেলে যায় না। কারণ তারা বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকে বাকিতে ক্রয় করে পণ্য বিক্রি করে ওই টাকা শোধ করেন। তাদের ব্যাংকে যেতে হয় না। যার কারণে বড় একটা অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক রয়ে গেছে।

‘এখন সময় এসেছে দেশের অর্থনীতির বড় যে অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক রয়েছে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক আকারে নিয়ে আসা। আগামী তিন বছরে এ কাজ করতে হবে। তবে তাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে। এ খাতে এখন খরচ বেশি হলেও আগামীতে গ্রাহক বাড়লে খরচ কমে যাবে। এ জন্য সিএমএসএমই আমরা বেশি জোড় দিচ্ছি।’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রণোদনা ঘোষণার পর এফবিসিসিআই সরকারকে অনুরোধ করে ব্যাংক কোনভাবেই যেন চাপে না পড়ে। বাংলাদেশে ব্যাংকের প্যাকেজের বেশিরভাগ সিএসএমই (৯৯ শতাংশ) ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের বাহিরে। বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ঋণ প্রক্রিয়া সহজ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ও বড় ব্যবসায়ীদের জন্য সরকার প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাবে বড় শিল্প খাত। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত পাবে ২০ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের সুদ ৯ শতাংশ হিসাব করা হলেও ঋণগ্রহীতাদের দিতে হবে গড়ে অর্ধেক সুদ। বাকি অর্থেক সুদের অর্থ সরকার ভর্তুকি আকারে ব্যাংকগুলোকে দিয়ে দেবে।