করোনা দুর্যোগে বাজেটে বরাদ্দ ও অগ্রাধিকারে সামঞ্জস্য নেই : মির্জা আজিজুল ইসলাম

শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২০

ঢাকা : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এবিএম মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রদত্ত বাজেটে বরাদ্দ ও অগ্রাধিকারে সামঞ্জস্য নেই। করোনা মহামারির জন্য বাজেটে উল্লেখিত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে না। অপরদিকে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাজেট বড় কথা নয় বরং সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। এদেশে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানাবিধ জটিলতা রয়েছে। ফলে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খুব দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জবাবদিহিতা মূলক প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

করোনা দুর্যোগে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রভাব, চ্যালেঞ্জ ও করনীয় সম্পর্কে এদেশের সচেতন মহলসহ সরকারের পদক্ষেপ কী হতে পারে এ সর্ম্পকে জনসচেতনতা তৈরী ও দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য পলিসি রিসার্স এন্ড ষ্টাডিজ ফাউন্ডেশন (পিআরএসএফ)-এর উদ্যোগে শুক্রবার জুম, ফেসবুক ও ইউটিউবসহ অনলাইনের মাধ্যমে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মির্জা আজিজুল ইসলাম এ কথা বলেন। সাবেক সচিব শাহ আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এম মুজাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ডঃ মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. এম রাশেদুল হক, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোঃ হুমায়ুন কবির, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবদুল কাইয়ুম, সাবেক যুগ্মসচিব শাহ আলম বকশী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আবদুর রব, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আবু বকর রাফিক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের অধ্যাপক ড. বি এম মফিজুর রহমান আজহারী, ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির রেজিস্টার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইন উদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ডাঃ শাহীনুল ইসলাম, মালয়েশিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসর ড. মোল্লা শহিদুল ইসলাম, অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম, আমেরিকার লরেন্স টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি সাউথফিল্ড মিশিগানের অধ্যাপক ড. আহাদ আলী, অষ্ট্রেলিয়া সরকারের অবকাঠামো, পরিবহন এবং ডিজিটাল যোগাযোগ বিভাগের প্রকৌশলী ডঃ মাসুদ রহমান, ব্যারিস্টার শেখ রহমত আলী, মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) ভাইস-প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম হায়দার, ইয়ুথ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো: হাফিজুর রহমান, বুয়েটের সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ফখরুল ইসলাম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এর সাবেক চেয়ারম্যান কাজী হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আল্লামা কামাল উদ্দিন আবদুল্লাহ জাফরি, তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদীন, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার উপ-সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ডিএমডি নুরুল ইসলাম খলিফা, মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডাঃ আবদুস সামাদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কৃষিবিদ ড. আব্দুল করিম সহ দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন পলিসি রিসার্স এন্ড ষ্টাডিজ ফাউন্ডেশন (পি,আর,এস,এফ) নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল-আমিন ও বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান।

সভাপতির বক্তব্যে শাহ আবদুল হান্নান বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে কৃষিখাতকে ব্যাপক গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে এবং খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য শুধুমাত্র প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থা নয় বরং রিক্স শেয়ারিং ব্যাংকিং পদ্ধতি চালু করতে হবে। করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯-এর প্রভাবে হেলথ সিস্টেম ভেঙে পড়েছে তা নতুন করে গড়তে হবে। সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের ঘরে স্বাস্থ্য সেবা ও সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, আমাদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হল করোনা মহামারীর কবল থেকে দেশের ১৭ কোটি মানুষকে সুরক্ষা প্রদান এবং একই সাথে উদ্ভূত মহাসংকটের ফলে অর্থনীতির যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা পূরণ করা। বক্তাগন আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, করোনা প্যানডেমিকের নানাবিধ অভিঘাতের ফলে বিনিয়োাগ হ্রাস পাবে, ব্যাংকিং সেক্টরে তারল্য সঙ্কট ঘনীভূত হবে, খেলাপি ঋণ বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাবে, পুঁজিবাজার যেই ভংগুর অবস্থায় রয়েছে তা সহসা চাঙ্গা হবে না, বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে, পোশাক খাত সহ অন্যান্য রপ্তানি আয় কমে যাবে, রেমিটেন্স হ্রাস পাবে, দরিদ্র ও হতদরিদ্র সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের আশু পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। স্বল্পক্ষেত্রে সরকারকে পুনর্বাসন বা রিহ্যাবিলিটেশন এবং উদ্ধার বা রিকভারি এই দুই ফেজে কাজ করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে শিল্পনীতি, কৃষিনীতি, আমদানি-রপ্তানি নীতি, ব্যাংকিং ও বীমা নীতি, সরকারের আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন কৌশল সকল ক্ষেত্রেই মৌলিক ও দৃষ্টিভঙ্গি গত পরিবর্তন আনা জরুরি।

বক্তারা আরো বলেন, করোনা দুর্যোগে প্রদত্ত বাজেটে যতবার করোনার কথা বলা হয়েছে ঠিক সেইভাবে বরাদ্দ প্রদান করা হয়নি। এবারের বাজেট আমজনতার বাজেট হওয়ার কথা ছিল অথচ তা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সময়ে ধনী গরিবের বৈষম্য দূর হওয়ার কথা ছিল অথচ এই বৈষম্য আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেই পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। ফলে আমাদের আমজনতার কথা অর্থাৎ সাধারণ মানুষের কথা মনে করেই বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।