বজ্রপাতে সাত জেলায় প্রাণ গেল ১৬ জনের

শুক্রবার, জুন ৫, ২০২০

ঢাকা : ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে সাত জেলায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, যশোর, ময়মনসিংহ, হবিগঞ্জ ও কুষ্টিয়ায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

বগুড়ায় পাঁচজন, ময়মনসিংহ ও হবিগঞ্জে তিনজন করে, কুষ্টিয়ায় দুইজন এবং অপর জেলাগুলোয় একজন করে মারা যান।

বগুড়ায় ৫ কৃষকের মৃত্যু

কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম জানান, বিকালে মাঠে কাজ করে ফেরার সময় ইউনিয়নের এরুইল গ্রামের মোখলেছুর রহমানসহ (৪০) দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে বলে তিনি।
ধুনট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, বিকালে ধুনট উপজেলার গোপাল নগর ইউনিয়নের দেউড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম (৫৫) নামের এক কৃষক মারা যান।
শাহজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, শাহজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের হরিগারী গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা গেছেন।
সারিয়াকানন্দি উপজেলার মতিউর রহমান জানান, উপজেলার দুর্গম চর কাজলা ইউনিয়নের চরখুরিপাড়া গ্রামের কৃষক লেবু (৩৫) মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান।

জয়পুরহাটে একজন নিহত

বিকালে সদর উপজেলার পারুলিয়া গণকবাড়ী গ্রামে বজ্রপাতে মারা যান কৃষক সুকমল চন্দ্র (৫০)।
সুকমল ওই গ্রামের মৃত রাজেন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে।

গ্রামবাসীর বরাত দিয়ে সদর থানার ওসি শাহরিয়ার খান জানান, জমিতে কাজ করে বাড়ি এসে টিওবয়েলে গোসল করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন সুকমল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করান; পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নওগাঁয় একজন নিহত

রানীনগর উপজেলার লোহাচুড়া গ্রামের মাঠে সন্ধ্যায় বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন যুবক মিঠু আকন্দ (২২)।

মিঠু ওই গ্রামের আয়েজ আকন্দের ছেলে।

রানীনগর থানার ওসি জহিরুল হক জানান, মিঠু তার গ্রামের পাশে জলমগ্ন জমিতে মাছ ধরার জাল ফেলতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

এলাকাবাসী উদ্ধার করে স্থানীয় রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যশোরে একজন নিহত

মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সৈয়দ বখতিয়ার হোসেন জানান, উপজেলার কুলটিয়ায় হাটগাছা গ্রামে সকালে বজ্রপাতে দীপ্ত বৈরাগীর (২২) মৃত্যু হয়েছে।

ময়মনসিংহে ৩ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহে বজ্রপাতে দুই কিশোর ও এক গরু ব্যবসায়ী মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর পৃথক পৃথক বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন, গরু ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালেব (৫০), উপজেলার জঙ্গলবাড়ী গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে তিনি। এছাড়া, আছিম পাটুলী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো.রবিন, (১৩) এবং বিদ্যানন্দ গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে ইমরান হোসেন (১৪)।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, দুপুর ২টার দিকে উপজেলার জঙ্গলবাড়ি এলাকার গরু ব্যবসায়ী মোতালেব মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

“দুপুর ৩টার দিকে আছিম পাটুলী গ্রামের রবিন বাড়ির পাশে খেলার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

“বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যানন্দ গ্রামে বাড়ির পাশে ঘুড়ি ওড়ানোর সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় র ইমরানের।”

হবিগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে ৩ কিশোর নিহত

হবিগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিন কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

বৃহস্পতিবার বাহুবল ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় তিনটি স্থানে তাদের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন বাহুবলের পুটিজুরী ইউনিয়নের নোয়াঐ গ্রামের ওরখাইদ (১১) ও সাতকপান ইউনিয়নের মানিকা গ্রামের নছর উদ্দিন (১৭) এবং আজমিরীগঞ্জের নয়ানগর গ্রামের লিলু মিয়া (১৬)।

বাহুবল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, নোয়াঐ গ্রামের ওরখাইদ বড় ভাই জুনাইদসহ আরও দুজনকে নিয়ে সকালে বাড়ির পাশের খালে মাছ মারতে যান। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার ভাই জুনাইদ ও বন্ধু ওসমান আলী আহত হন।

আহতদের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

একই উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের জারিয়া বিলে মানিকা গ্রামের নছর উদ্দিন বাড়ির পার্শবর্তী হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

আজমিরীগঞ্জ থানার এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, নয়াগড় গ্রামের লিলু মিয়া (১৬) সকালে মাছ ধরতে যান। এ সময় বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলে নিহত হন।

কুষ্টিয়ায় ২ জন নিহত

কুমারখালী উপজেলার চরসাদিপুর ও নন্দলালপুর গ্রামে বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার সময় চরসাদিপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর গ্রামে এবং নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর সর্দারপাড়া গ্রামে এ দুটি ঘটনা ঘটেছে।

নিহতরা হলেন ঘোষপুর গ্রামের হামিদুল মন্ডলের ছেলে ফারুক মন্ডল (৩০) এবং সদরপুর সর্দারপাড়া গ্রামের শফি উদ্দিন (৪৫)।

ফারুক মন্ডল পদ্মা নদীর চরে গরু চরাচ্ছিলেন এবং শফি উদ্দিন মাঠে কৃষি কাজ করছিলেন বলে ইউএনও জানিয়েছেন।