ঈদের একদিন আগে ঢাকার বাতাসে ‘সুখবর’

রবিবার, মে ২৪, ২০২০

পরিবেশ ডেস্ক: বিশ্ব কাঁপছে এখন করোনা আতঙ্কে। অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অদৃশ্য এই ভাইরাসটি ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্বের গোটা চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের। দেশে দেশে মৃত্যুর সারি দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিদিন। বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। এ থেকে মন্ত্রী-এমপি, রাজা-মহারাজা, উজির-নাজির কিংবা নামিদামি তারকারাও রেহাই পাচ্ছেন না। বাংলাদেশেও করোনায় আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৩২ হাজার, মারা গেছে প্রায় ৪৮০ জন। সবশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় একদিনে মৃত্যুতে আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২৮ জন।

তবে এতসব দুঃসংবাদের মধ্যে ঈদুল ফিতরের ঠিক একদিন আগেই সুখবর পেলো ঢাকাবাসী। রবিবার (২৪ মে) এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) জানিয়েছে, ঢাকার বাতাসের মান উন্নত হয়েছে। তবে এখনও পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর নয়।

আজ সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ১০০ স্কোর নিয়ে ১২তম খারাপ অবস্থানে উঠে ২ কোটি মানুষের ব্যস্ততম এই শহরটি। সাধারণত ১০০ স্কোরে বাতাসের মানকে ‘সহনীয়’ নির্দেশ করা হয়।

১৭০ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে চিলির সান্তিয়াগোর বাতাসের মান। এরপরই ১৬৩ স্কোর নিয়ে ভারতের দিল্লি ও ১৬২ স্কোর নিয়ে ভিয়েতনামের হ্যানয় সর্বোচ্চ দূষণে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

সাধারণত একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে সাধারণ নগরবাসী বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁতে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে একিউআই সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত, এ বিষয়ে তথ্য দেয়া হয়। একইসঙ্গে কোন শহরের বাতাস কোন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে তাও জানানো হয়।

পরিবেশবিদরা বলছেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকাংশে ফাঁকা। নেই যানবাহনের চাপ, শিল্প ও কলকারখানা বন্ধ, নির্মাণ কাজ থেমে গেছে। এ কারণেই ঢাকার বাতাসের মান উন্নত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ গবেষক ড. আবদুস সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন সব কর্মস্থল বন্ধ। তাই বাতাসের মানও ভালো হয়েছে। সাধারণ চারটি কারণে বায়ুদূষণ হয়। এগুলো হচ্ছে- যানবাহন, বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ইটভাটা। এর সবগুলোই এখন থেমে আছে। এই সাধারণ ছুটি শেষ হলে ঢাকায় বাতাসের মানের আবারও চরম অবনতি হবে।’

তবে এ নিয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে পারলে ঢাকাবাসীর পক্ষেও মানসম্মত বায়ু পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন ড. সালাম।

বায়ুদূষণ নিয়ে পরিবেশবিজ্ঞানী ও গবেষকরা মনে করেন, ধুলোবালি বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। এছাড়াও অপরিকল্পিত-অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ, মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযান ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ভারি ধাতু ধুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার বাতাসে পাওয়া ধুলোয় সিসা, ক্যাডমিয়াম, দস্তা, ক্রোমিয়াম, নিকেল, আর্সেনিক, ম্যাঙ্গানিজ ও কপারের সর্বোচ্চ মাত্রায় উপস্থিতি পাওয়া যায়। এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা খুব সহজেই মানুষের ত্বকের সংস্পর্শে আসছে।

দেশজুড়ে যখন করোনা ভাইরাসের মহামারির এমন সময়ে ঢাকার বাতাসে মান উন্নতি অন্তত ঢাকাবাসীকে ঈদের আগ মুহূর্তে খানিকটা হলেও স্বস্তি দেবে।

উল্লেখ্য, একিউআই সূচকে ৫০ এর নিয়ে স্কোর থাকলে ওই শহরের বাতাসের মান ভালো বলা হয়। স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে বাতাসের মান গ্রহণযোগ বলে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু একিউআই স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে শহরের বাতাসকে দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বলে চিহ্নিত করা হয়।

আর একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে স্বাস্থ্য সতর্কতাসহ জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ৩০১ থেকে ৫০০ হলে বাতাসের মান সবচেয়ে খারাপ বলে ধরে নেয়া হয়।