মুখে বাঁধা ফেস মাস্ক, পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে গ্রহাণু

মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২০

ঢাকা : পৃথিবীতে চলছে মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের রাজত্ব। আর এই করোনা ভাইরাসকে সংক্রমণ ঠেকাতে চোখ, নাক, মুখ ডেকে রাখতে মাস্ক ব্যবহার করছে সবাই। তাই মাস্ক পরা এখন বাধ্যতামূলক।

পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ এখন মাস্ক পরার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। এমন অবস্থায় নাকি পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে একটি গ্রহাণু, যার নাকি মুখে বাঁধা মাস্ক। সম্প্রতি মহাকাশবিদদের হাতে ওঠে এসেছে সেই ছবি। একটি অবজারভেটরি থেকে সেই ইমেজ প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার চওড়া এই গ্রহাণু মাউন্ট এভারেস্টের অর্ধেক। ১৯৯৮ সালে প্রথম এই গ্রহাণুটি আবিষ্কার করা হয়েছিল।

তীব্র গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে এক গ্রহাণু। ২.৫ মাইল চওড়া গ্রহাণুটি ঘণ্টায় ১৯ হাজার ৪৬১ মাইল বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। ২৯ এপ্রিল, অর্থাৎ বুধবার ভোর ৫টা ৫৬ নাগাদ পৃথিবীর গা ঘেঁষে বেরিয়ে যাবে গ্রহাণু ১৯৯৮ ওআর২।

নাসা সূত্রে জানা গেছে, গ্রহাণুটির সাইজ প্রায় মাউন্ট এভারেস্টের সমান। আকারে বৃহৎ এই গ্রহাণুর সামনের অংশে উঁচু রেখার মতো রয়েছে, যা দূর থেকে ‘মাস্কের মতো’ দেখতে লাগছে। আরও জানা গেছে, গ্রহাণুটির কোড নাম ৫২৭৬৮ এবং এটি শেষবার ১৯৯৮ সালে দেখা গিয়েছিল। পৃথিবী ঘেঁষে উড়ে যাওয়ার সময় পৃথিবী থেকে গ্রহাণুর দূরত্ব হবে ৩৯ লাখ কিলোমিটার। পৃথিবীর সঙ্গে ওআর২-এর সংঘর্ষের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা)।

নাসার মহাকাশবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবী স্পর্শ করবে না এই উল্কাপিণ্ড। তবে নিজেদের ‘এনইএটি’ (নেয়ার-আর্থ অ্যাস্টরয়েড ট্রাকিং) সিস্টেমের মাধ্যমে উল্কাপিণ্ডের গতিবিধির উপর নজর রাখছে নাসা। এনইএটি-এর প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর এলেনর হেলিন জানিয়েছেন, ‘বিপজ্জনক হতে পারে, এমন সব গ্রহাণু ও উল্কা সম্পর্কে তথ্য নিতে আমরা এনইএটি ব্যবহার করে থাকি।’

অ্যারিসিবো অবজারভেটরির প্লানেটারি রাডারের প্রধান অ্যান ভির্ক্কি এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই গ্রহাণুটির প্রভাব পৃথিবীতে পড়বে না। এমনটা আশঙ্কাও করা হয়নি। তবে ঝুঁকি প্রশমন প্রযুক্তি উন্নত করতে এই ধরনের বস্তুর বৈশিষ্ট্যগুলো বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।