যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত ১৮ হাজার, আক্রান্ত ৫ লাখ

শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের উহান থেকে প্রথম করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়। তারও তিন মাস পার হয়েছে। কিন্তু এখনও নিয়ন্ত্রণের লক্ষণ দৃশ্যমান নয়। ইতোমধ্যেই করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সারাবিশ্ব। এর মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।

দিনদিন অবস্থা আরও অবনতি হচ্ছে। ক্রমাগত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭২৫ জন। এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্কে মারা গেছে ৭ হাজার ৮৪৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ২ হাজার ৪৩ জন। যা একদিনে এ যাবৎ সর্বোচ্চ মৃত্যু।

এদিকে আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে গেছে সবাইকেই। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ২ হাজার ৩১৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৫২ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ২৭ হাজার ৩১৪ জন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ২৭৯ জন আক্রান্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬২ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। বাকি ১০ হাজার ৯১৭ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা নিউইয়র্কে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭৭ জনসহ এ পর্যন্ত মারা গেছে ৭ হাজার ৮৪৪ জন। এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৮৫৪ জনসহ আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৭২হাজার ৩৫৪ জন।

আমেরিকার শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্টনি ফসি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা এক লাখ বা তারও বেশি হতে পারে। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই কথা বলেছেন। এদিকে চীন থেকে জরুরি মেডিকেল সরঞ্জাম পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র্রে। খবর বিবিসি, এএফপি।

উল্লেখ্য, চীনের উহান শহর থেকে তিন মাস আগে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়। কিন্তু এখনও নিয়ন্ত্রণের লক্ষণ দৃশ্যমান নয়। ইতোমধ্যে করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সারাবিশ্ব। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায়ই বিশ্বজুড়ে এতে ৭ হাজার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৬৯৬ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৮৪৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৯৪ হাজার ১৫৪ জন। যা এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৪ জন।

সবমিলিয়ে, বর্তমানে ১২ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৮ জন আক্রান্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৭০ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৪৯ হাজার ৮২৮ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ২ হাজার ৩১৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ১৮ হাজার ৭২৫ জনের। ইতালিতে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭৭ জন আক্রান্ত, বিপরীতে মারা গেছে ১৮ হাজার ৮৪৯ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে।

এছাড়া স্পেনে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭৩ জন আক্রান্ত, আর ১৬ হাজার ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জার্মানিতে ১ লাখ ২২ হাজার ১৭১ জন আক্রান্ত, ২ হাজার ৭৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনে আক্রান্ত ৮১ হাজার ৯৫৩, মারা গেছে ৩ হাজার ৩৩৯ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৯, মারা গেছে ১৩ হাজার ১৯৭ জন। ইরানে আক্রান্ত ৬৮ হাজার ১৯২, মারা গেছে ৪ হাজার ২৩২ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ৭৩ হাজার ৭৫৮, মারা গেছে ৮ হাজার ৯৫৮ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ২৬ হাজার ৬৬৭, মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১৯ জনের। নেদারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৩ হাজার ৯৭, মারা গেছে ২ হাজার ৫১১ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৪ হাজার ৫৫১, মারা গেছে ১ হাজার ২ জন। তুরস্কে আক্রান্ত ৪৭ হাজার ২৯, মারা গেছে ১ হাজার ৬ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত ১৯ হাজার ৭৭৯, মারা গেছে ১ হাজার ৬৮ জন।

এছাড়া ভারতে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৬০০ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর প্রাণ গেছে ২৪৯ জনের। পাকিস্তানে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৯৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৬৬ জন মারা গেছে। বাংলাদেশে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৪২৪ জন আক্রান্ত হয়েছে বিপরীতে প্রাণ গেছে ২৭ জনের।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।