প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজ ও নানা প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০

চট্টগ্রাম: গত ৫ এপ্রিল জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এতে মুদ্রানীতির যে ঘোষণা এ প্রণোদনা প্যাকেজে আছে তাতে করে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এজন্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যেন মানুষের পারচেসিং (ক্রয়ক্ষমতা) পাওয়ার আরো বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনীতির চাকা আরো গতিশীল হয়।

শুক্রবার ( ১০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) লিমিটেডের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজের প্রতিক্রিয়ায় এই কথা বলেছেন। তিনি সিএসই’র পরিচালনা পর্ষদ এবং সমগ্র স্ট্যাকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্যাকেজটি যথেষ্ট সময়োপযুগী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ বলে মনে করেন।

আসিফ ইব্রাহিম বলেন, সোশ্যাল সেফটিনিটির আন্ডারে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে টাকা পৌঁছানো এবং ১০ টাকা মূল্যে ১ কেজি চালের বন্দোবস্ত করার ঘোষণা যথেষ্ট বাস্তবসম্মত এবং সময়ের দাবিদার একটি পদক্ষেপ। কেননা, এই মহাদুর্যোগের সময় হতদরিদ্র মানুষগুলোর দৈনন্দিন কর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং হবে। তাই মুদ্রানীতির যে ঘোষণা এই প্রণোদনা প্যাকেজে আছে তাতে করে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এজন্য আভ্যন্তরীন চাহিদা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যেন মানুষের পারচেসিং(ক্রয়ক্ষমতা) পাওয়ার আরো বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনীতির চাকা আরো গতিশীল হয়।

তিনি বলেন, বৃহৎ শিল্পের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা, ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৪ শতাংশ হারে একটি প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যথেষ্ট লাভবান হবে বাকি ৯ শতাংশ হারে ইন্টারেস্ট বাজেট সরকার শেয়ার করবে। তাই বলা যায় ব্যাংকের জন্য একটি যথেষ্ট ভালো সুযোগ হবে বলে আমরা আশা করি। ইডিএফ ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি করে ৫ বিলিয়ন করা হয়েছে যাতে রপ্তানিকারকরা কিছু সুবিধা পাবেন এবং পূর্ব জাহাজীকরণের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার ৭ শতাংশ হারে একটি স্কিম রয়েছে যা একটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ।

সিএসই চেয়ারম্যান বলেন, সামগ্রিকভাবে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে সেটা সত্যিই আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এই মুহূর্তে ঋণগুলো দেওয়া প্রয়োজন। ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বৃহৎ শিল্পের ক্ষেত্রে তাদের কর্মচারীদের বেতন প্রদান এবং চলতি মূলধনের জন্য এই ঋণ দ্রুত গতিতে তাদের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। হতে পারে এই উদ্দেশ্যে সরকারি ও বেসরকারি জনবল সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মুহূর্তে দেশের দুটি পুঁজিবাজার-ই বন্ধ আছে। আমরা আশা করছি যে এই প্রণোদনা প্যাকেজটি কার্যকর হলে যখন পুঁজিবাজার তার কার্যক্রম শুরু করবে তখন এর পজিটিভ প্রভাব দেখতে পাবো।