ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনা ভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তিনি বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন।

ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ঋষি শৌনাক বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বরিস জনসন হাসপাতালের বিছানায় উঠে বসছেন। প্রধানমন্ত্রী মেডিক্যাল কর্মীদের সঙ্গে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর (৫ এপ্রিল) হাসপাতালে ভর্তি হন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। পরিস্থিতির অবনতি হলে পরদিন সন্ধ্যায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। আইসিইউতে তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে বলে জানায় ডাউনিং স্ট্রিট।

বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী ঋষি শৌনাক জানান প্রধানমন্ত্রী চমৎকার সেবা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আইসিইউতে রয়েছেন। সেখানে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছ।’ তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি তিনি বিছানায় উঠে বসেছেন এবং চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন।’

ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার প্রতিটি পর্যায়ে চমৎকার সেবা ও পরামর্শ পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, আমরা কেউ অতিমানব নই।’ তিনি বলেন, রাজনীতিবিদ এবং কর্মকর্তারা নির্দেশনা অনুসরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ব্রিটিশ সরকার এখনও ভালোভাবে কাজ করে যাচ্ছে দাবি করে অর্থমন্ত্রী ঋষি শৌনাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেও ভালো খবর পাওয়া যাচ্ছে আর দূরে অবস্থান করা অনেকেই কাজে ফিরে আসছেন। তবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশনা বহাল রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৬০ হাজার ৭৩৩ জন, মারা গেছে ৭ হাজার ৯৭ জন।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ৩ মাস ছাড়িয়েছে। এখনও নিয়ন্ত্রণের লক্ষণ খুব একটা দৃশ্যমান নয়। করোনায় বিপর্যস্ত সারাবিশ্ব। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ৬ হাজার ৩৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৪৩৩ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৮২ হাজার ৯৫৪ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৫ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৩১ জন।

সবমিলিয়ে, বর্তমানে ১০ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭১ জন আক্রান্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৬৯৩ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৪৮ হাজার ৭৮ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬২ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৭৭৪ জনের। ইতালিতে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪২২ জন আক্রান্ত, বিপরীতে মারা গেছে ১৭ হাজার ৬৬৯ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে।

এছাড়া স্পেনে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার ২২০ জন আক্রান্ত, আর ১৪ হাজার ৭৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। জার্মানিতে ১ লাখ ১৩ হাজার ২৯৬ জন আক্রান্ত, ২ হাজার ৩৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনে আক্রান্ত ৮১ হাজার ৮০২, মারা গেছে ৩ হাজার ৩৩৩ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ১২ হাজার ৯৫০, মারা গেছে ১০ হাজার ৮৬৯ জন। ইরানে আক্রান্ত ৬৪ হাজার ৫৮৬, মারা গেছে ৩ হাজার ৯৯৩ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ৬০ হাজার ৭৩৩, মারা গেছে ৭ হাজার ৯৭ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ২৩ হাজার ৪০৩, মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২৪০ জনের। নেদারল্যান্ডে আক্রান্ত ২০ হাজার ৫৪৯, মারা গেছে ২ হাজার ২৪৮ জন।

এছাড়া ভারতে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৯১৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর প্রাণ গেছে ১৭৮ জনের। পাকিস্তানে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ২৬৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৬১ জন মারা গেছে। বাংলাদেশে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২১৮ জন আক্রান্ত হয়েছে বিপরীতে প্রাণ গেছে ২০ জনের।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।