‘করোনায় ৬০ কোটি মানুষ দরিদ্র হওয়ার শঙ্কা’

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ব বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার মুখে। এ পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমায় প্রবেশ করতে পারে। করোনা ভাইরাস মহামারির অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে জাতিসংঘের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে গত ৩০ বছরে এই প্রথম দরিদ্রের সংখ্যা বাড়বে। এই রিপোর্ট এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন আগামী সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং জি২০ অর্থমন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ব্রিটেনের কিংস কলেজ লন্ডন এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এএনইউ) বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে এই প্রতিবেদনটি লিখেছেন।

এএনইউর বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার হয় বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্য সংকটের চেয়েও বিশ্বজুড়ে গুরুতর হতে যাচ্ছে অর্থনৈতিক সংকট।’

প্রতিবেদনটিতে অনুমান করা হয়, বিশ্বজুড়ে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ থেকে ৬০ কোটি বাড়তে পারে। এতে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূর করার যে লক্ষ্য রয়েছে, তা পূরণে বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

কিংস কলেজ লন্ডনের প্রফেসর অ্যান্ডি সামনার বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যত দ্রুত সম্ভব সামাজিক সুরক্ষায় পরিসর বাড়াতে হবে। এবং এর গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করেই আমাদের এই গবেষণা। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কভিড-১৯ এর কী প্রভাব পড়তে যাচ্ছে এবং সাহায্য করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী করতে পারে সেদিকে মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।’

তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এ মহামারি শেষ হতে হতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী দারিদ্রের মধ্যে জীবনযাপন শুরু করবে। নতুন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশই হবে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাসিন্দা। আর এক তৃতীয়াংশ হবে সাব-সাহারা আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ৩ মাস ছাড়িয়েছে। এখনও নিয়ন্ত্রণের লক্ষণ খুব একটা দৃশ্যমান নয়। করোনায় বিপর্যস্ত সারাবিশ্ব। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ৬ হাজার ৩৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৪৩৩ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৮২ হাজার ৯৫৪ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৫ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৩১ জন।

সবমিলিয়ে, বর্তমানে ১০ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭১ জন আক্রান্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৬৯৩ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৪৮ হাজার ৭৮ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬২ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৭৭৪ জনের। ইতালিতে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪২২ জন আক্রান্ত, বিপরীতে মারা গেছে ১৭ হাজার ৬৬৯ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে।

এছাড়া স্পেনে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার ২২০ জন আক্রান্ত, আর ১৪ হাজার ৭৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। জার্মানিতে ১ লাখ ১৩ হাজার ২৯৬ জন আক্রান্ত, ২ হাজার ৩৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনে আক্রান্ত ৮১ হাজার ৮০২, মারা গেছে ৩ হাজার ৩৩৩ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ১২ হাজার ৯৫০, মারা গেছে ১০ হাজার ৮৬৯ জন। ইরানে আক্রান্ত ৬৪ হাজার ৫৮৬, মারা গেছে ৩ হাজার ৯৯৩ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ৬০ হাজার ৭৩৩, মারা গেছে ৭ হাজার ৯৭ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ২৩ হাজার ৪০৩, মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২৪০ জনের। নেদারল্যান্ডে আক্রান্ত ২০ হাজার ৫৪৯, মারা গেছে ২ হাজার ২৪৮ জন।

এছাড়া ভারতে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৯১৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর প্রাণ গেছে ১৭৮ জনের। পাকিস্তানে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ২৬৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৬১ জন মারা গেছে। বাংলাদেশে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২১৮ জন আক্রান্ত হয়েছে বিপরীতে প্রাণ গেছে ২০ জনের।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।