ইয়েমেনে সৌদি জোটের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘ ৫ বছর পর করোনা মোকাবিলায় জাতিসংঘের আহ্বানে প্রথম এ যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা আসল। হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই বন্ধে বৃহস্পতিবার থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে জানিয়েছে সৌদি জোট। তবে হুথি বিদ্রোহীরা এটা মেনে চলবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে অনেকেই। খবর বিবিসি।

সৌদি জোটের মুখপাত্র কর্নেল তার্কি আল মালকির বরাতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, ‘ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘ দূতের উদ্যোগ সফল ও বাস্তবায়ন, ইয়েমেনি জনগণের দুর্ভোগ লাঘব, করোনা মহামারি মোকাবিলা এবং এর বিস্তার ঠেকাতে সৌদি জোট দুই সপ্তাহের জন্য বিস্তারিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করছে। এটি শুরু হবে বৃহস্পতিবার।’

সৌদি সোর্সের বরাত দিয়ে বিবিসির চীফ ইন্টারন্যাশনাল করেসপন্ডেন্ট লাইস ডুসেট জানিয়েছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি-ইমারাতি আগ্রাসন দিনদিন লস প্রজেক্টে পরিণত হচ্ছিল। হুথিরা গত এক বছরে যেভাবে বেশ কয়েকটা পাল্টা চোরাগুপ্তা হামলা করেছে, ওই রকম আরো কয়েকটা হামলা হলে সৌদি-ইমারাতের জন্য তা ভয়ংকর হতে পারে। সুতরাং তাদের ইয়েমেন ছাড়ার পথ খোঁজাটাই স্বাভাবিক। যদিও ইমারাত আরো আগেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল। এখন সৌদিও সেই পথেই হাঁটছে। ঠিক কী কারণে এ সিদ্ধান্ত, এখনও পরিষ্কার না। কিন্তু পরিষ্কারভাবেই ইয়েমেনে তারা সুবিধা করতে পারছিল না। ওদিকে তেলের দামও করোনার কারণে ধাবাহিকভাবে পড়ছিল। তবে ঘটনা যাই হোক, মূল ক্রেডিটটা শেষ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসই পাবে।

বিবিসি জানিয়েছে, উভয়পক্ষ ভিডিও কনফারেন্সে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সৌদি জোটের প্রস্তাবে সব ধরনের বিমান, স্থল ও নৌ হামলা স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

২০১৫ সালের মার্চ থেকে পশ্চিমা সামরিক সহায়তায় ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সৌদি জোট। গত মাসে জাতিসংঘ মহাসচিব করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় গতি আনার তাগিদ দিয়ে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। যুদ্ধবিরতি কার্যকরে তার বিশেষ দূত মার্টিন গ্রিফিথের সঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার যুদ্ধবিরতির খবর প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে একে স্বাগত জানিয়েছেন মার্টিন গ্রিফিথ। জাতিসংঘ মহাসচিবের এই বিশেষ দূত বলেন, ‘লড়াইরত পক্ষগুলো এখন অবশ্যই এই সুযোগ ব্যবহার করবে এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অবিলম্বে সব ধরণের সহিংসতা বন্ধ করবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় হুথি বিদ্রোহীরা। পালিয়ে রিয়াদে আশ্রয় নেন সৌদি সমর্থনপুষ্ট হাদি। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি’র বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে রিয়াদ। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত ও লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে পুরো ইয়েমেন। ইয়েমেন পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে ‘মারাত্মক মানবিক সংকট’ আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘ এর আগেও কয়েকবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিলেও এবারই প্রথমবারের মতো ইয়েমেন জুড়ে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলো সৌদি জোট। হুথি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুল সালাম বলেছেন, তারা যুদ্ধ এবং ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা সামনে রাখবেন।