লকডাউন বাড়ল নিউ ইয়র্কে

মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত সারাবিশ্ব। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে। সেখানে আক্রান্ত ও মৃত্যু হু হু করে বাড়ছে। দেশটির নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। মৃতের সংখ্যায় চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে রাজ্যটি।

এখন পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৫৮ জন। যেখানে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৩ জন। অর্থাৎ দেশটিতে মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই নিউ ইয়র্কে। অঙ্গরাজ্যটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯৯ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৯১৬ জন, যা বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যায় চতুর্থ স্থানে থাকা জার্মানির চেয়েও অনেক বেশি এবং ইতালির মোট আক্রান্তের সংখ্যার কাছাকাছি।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল নিউইয়র্কে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যা চলবে আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত। একই সঙ্গে লকডাউন না মানার ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে জরিমানার পরিমাণও। এক্ষেত্রে এক হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার নিয়ম চালু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

নিউ ইয়র্কের অ্যান্ড্রু কুমো বলেন, যত মানুষ আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছে- এগুলো ভালো খবর নয়। তবে এর হার বৃদ্ধির চেয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকাই ভালো। সংক্রমণের হার কমাতে সামাজিক দূরত্বে বেশ কাজ হচ্ছে। অবশ্য সোমবার অঙ্গরাজ্যটিতে মৃত্যুহার এবং আক্রান্তের সংখ্যা টানা দ্বিতীয়দিনের মতো কমেছে বলে জানান গভর্নর কুমো।

গভর্নর কুমো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা বিরাজ করছে নিউ ইয়র্ক শহরের ‍পূর্ব দিকের লং আইল্যান্ডে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ‘দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে’।

নিউ ইয়র্কের হাসপাতালগুলো অসুস্থদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে, কিন্তু তারপরও মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে পারছেন না। মৃতদের কবর দেওয়া নিয়ে রীতিমতো সংগ্রাম করছে শহরের মর্গগুলো। সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় গুরুতর অসুস্থদের রোগীদের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের জীবনের শেষ মূহুর্তগুলোতেও পাশে থাকতে পারছেন না।

বিশ্বে করোনা ভাইরাসে এখন সর্বোচ্চ আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫০ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৯৪৩ জনের। সুস্থ হয়েছে ১৯ হাজার ৮১০ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৬০ জন এবং মারা গেছে ৭৪ হাজার ৮৩৬ জন। সুস্থ হয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৮ জন।