বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি: আরও ভয়ানক তথ্য জানালেন প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২০

ঢাকা : গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছিল। এর ১১ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ দেশে প্রথম কোনও ব্যক্তি এ ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এরপর প্রায় প্রতিদিন একজন দুজন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল। বাড়ছিল মৃত্যুও। মাঝের কয়েকদিন মৃত্যুর কোনও খবর আসছিল না। সংক্রমণের সংখ্যাও ছিল হাতে গোনা।

কিন্তু গতকাল সোমবার হঠাৎ করেই একদিনেই ৩৫ জন আক্রান্তের খবর জানায় জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর)। আসতে থাকে মৃত্যুর খবরও। এরপরই নড়েচড়ে বসে গোটা দেশের জনগণ।

এবার বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আরও ভয়ানক তথ্য জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘এপ্রিল মাসটা আমাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসতে পারে। পরিসংখ্যা তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। করোনা ভাইরাস বিশ্বে প্রলয়ের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এপ্রিল মাসটা আমাদের জন্য খুবই এক দুঃসময়ের মাস আসছে। সেটাই খবর পাচ্ছি।’

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের ১৫টি জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা দিন আনে দিন খায় সেই ধরনের সামান্য আয়ের মানুষগুলোর টাকা কামাই এখন বন্ধ হয়ে আছে। বহু লোক এখন কষ্ট করে যাচ্ছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দিয়েছি।’

দেশের এই দুর্যোগকালে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যে যেখানে পারেন কিছু শাক-সবজি উৎপাদন করে নিজের চাহিদা মেটান। উদ্বৃত্ত থাকলে সেগুলো দিয়ে কারও চাহিদা হলে তাদেরকেও দিন। সেইভাবেই সবাই প্রস্তুতি নিন। মুরগির খামার, মাছের ফার্ম, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প যেন চলমান থাকে। আমরা গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল নিয়ে জনগণের সুবিধার কথা আমরা ভাবছি।’

দুঃসময়ে অনেকেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করার চেষ্টা করেন ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তাদেরকে কিন্তু আমি এতটুকু ছাড় দেবো না। আমরা কষ্ট করে গরিবের জন্য অর্থ-খাদ্য দেবো, সেটা যেন গরিবের হাতে পৌঁছায়।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে এত ধন-সম্পদ, অস্ত্র-শস্ত্র আজ কোথায় গেল? কোথায় গেল বিশ্বের এত এত শক্তি? শক্তি নাই, শেষ। প্রবল শক্তিশালী করোনার ভাইরাসের কাছে সব শক্তি শেষ। বিশ্বের কোনও শক্তিশালী দেশই আজ কিছু করতে পারছে না।’

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সরকার সময় মতো যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ায় অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে এখনও ব্যাপকভাবে ছড়ায়নি বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। সামনে যে ভয়াবহ অবস্থাটা আসছে বাংলাদেশ সেটাও মোকাবিলা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।