স্পেনে লকডাউন বাড়ল ১৪ দিন

রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনা প্রতিরোধে স্পেনে চলমান লকডাউনের মেয়াদ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে সানচেজ বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি।’

এর আগে করোনার বিস্তৃতি ঠেকাতে গত দেশজুড়ে ১৫ দিনের লকডাউন ও জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। এই লকডাউনের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে আগামী ১১ এপ্রিল। নতুন করে ১৪দিন বাড়িয়ে সেটি ২৫ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরও দুই সপ্তাহ নির্জন ঘরে একাকী থাকা কতটা কঠিন তা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু এছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই। আরও কয়েক সপ্তাহ আমাদের এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক পরিবারকে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা তরুণ তারা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাও। যারা বয়স্ক মানুষ আছেন, আপনারা নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন। আপনারা এই মুহূর্তটিতে যা করা দরকার তাই করবেন।’

করোনার ভয়াবহতার নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কতটা শান্ত ও স্থির থাকতে পারি এই দিনগুলো সেই পরীক্ষাই নিচ্ছে। এই দিনগুলো হলো উন্মাদের মতো। এটা আমাদের নিজ নিজ পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে শঙ্কিত করেছে। আমাদের জীবনে এই দিনগুলোই সবচেয়ে কঠিন দিন।’

করোনা রোধে দেশটিতে মানুষের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আগে থেকেই আরোপ রয়েছে। এবার সেটি আরও বাড়ানো হলো। সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। স্পেনের সরকার গত মঙ্গলবার এই লকডাউনের অনুমোদন চাওয়ার পর দেশটির পার্লামেন্ট এই অনুমোদন দিয়েছে।

এদিকে করোনায় বিপর্যস্ত স্পেনে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৭৪৯ জন। এ নিয়ে মোট মারা গেল ১১ হাজার ৯৪৭ জন।

স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে বেশ কয়েকদিন আগেই। সেখানে এখন আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৯৬৯ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৩৪ হাজার ২১৯ জন।

এছাড়া স্পেনে বর্তমানে ৮০ হাজার ২ জন আক্রান্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৩ হাজার ৪৭০ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর বাকি ৬ হাজার ৫৩২ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৮০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৬৯১ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৪ হাজার ৮০০ জন। যা একদিনে আক্রান্তের সংখ্যায় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১২ লাখ ১ হাজার ৪৭৬ জন। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৪৬ হাজার ২৫৮ জন সুস্থ হয়েছে।

সবমিলিয়ে, বর্তমানে ৮ লাখ ৯০ হাজার ৩১৮ জন আক্রান্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ লাখ ৪৮ হাজার ৩০ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৪২ হাজার ২৮৮ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৪৫২ জনের। ইতালিতে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৩২ জন আক্রান্ত, বিপরীতে মারা গেছে ১৫ হাজার ৩৬২ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে।

এছাড়া স্পেনে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর ১১ হাজার ৯৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। জার্মানিতে ৯৬ হাজার ৯২ জন আক্রান্ত, মৃত্যু ১ হাজার ৪৪৪। চীনে আক্রান্ত ৮১ হাজার ৬৬৯, মৃত্যু ৩ হাজার ৩২৯। ফ্রান্সে আক্রান্ত ৮৯ হাজার ৯৫৩, মৃত্যু ৭ হাজার ৫৬০। ইরানে আক্রান্ত ৫৫ হাজার ৭৪৩, মৃত্যু ৩ হাজার ৪৫২। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ৪১ হাজার ৯০৩, মৃত্যু ৪ হাজার ৩১৩ জন।

এছাড়া ভারতে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৮৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর প্রাণ গেছে ৯৯ জনের। পাকিস্তানে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৮১৮ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৪১ জন মারা গেছে। বাংলাদেশে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৭০ জন আক্রান্ত হয়েছে বিপরীতে প্রাণ গেছে ৮ জনের।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।