৬ জেলায় জ্বর-সর্দি-শ্বাসকষ্টে ৭ রোগীর মৃত্যু

শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২০

ঢাকা: দেশের করোনা ভাইরাসের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টে মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে। এসব উপসর্গ নিয়ে আজও দেশে ৭ জন মারা গেছেন। মারা যাওয়া এসব রোগীদের রক্তের নমুনা জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও মারা যাওয়া ব্যক্তি যে বাড়িতে থাকতেন বা যাদের সংস্পর্শে এসেছে তাদের এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টিনে।

চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ঝিনাইদহ, নাটোর, মৌলভীবাজার ও শরীয়তপুরে জ্বর-কাশি-শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী ও রংপুরে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চাঁদপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যু, ৩ বাড়ি লকডাউন
জেলার মতলব উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ নিয়ে ৫৫ বছরের এক নারী মারা গেছেন। মারা যাওয়ার ওই নারীর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের মুন্সিরকান্দি গ্রামের তিনটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে স্থানীয় প্রশাসন ওই তিন বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, ওই নারী তিনদিন আগে নারায়নগঞ্জ থেকে নিজ বাবার বাড়িতে আসেন। তিনি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান। ভোরে প্রতিবেশিদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। ইউএনও মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করেছেন।

লক্ষ্মীপুরে দুই শিশুর মৃত্যু, ৪ বাড়ি লকডাউন
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জ্বর, কাশি ও খিঁচুনি নিয়ে শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে পৃথক দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চারটি বাড়ির সব পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। মৃত শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে সোয়াব টেস্টের জন্য ইনস্ট্রিটিউট অব পাবলিক হেলথ (আইপিএইচ) চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।

ঝিনাইদহে সর্দি, জ্বর ও কাশিতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের মৃত্যু
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ৫৯ বছরের এক ব্যক্তি সর্দি, জ্বর ও কাশিতে বেশ কয়েক দিন ভোগার পর শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোরে মারা গেছেন। একটি মেডিকেল টিম মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। নিহত ব্যক্তি পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল ছিলেন।

চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুদিন অসুস্থ্য থাকার পরও তিনি তার অসুস্থ্যতার কথা গোপন করেছিলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় তার লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।

শরীয়তপুরে নারীর মরদেহ নিয়ে পালিয়ে গেল স্বজনরা
জ্বর নিয়ে চিকিৎসাধীন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ২৫ বছরের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। করোনা ভাইরাস নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতি চলার মধ্যেই মরদেহ নিয়ে পালিয়ে যায় তার স্বজনরা।

হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনীর আহমদ খান জানান, শনিবার সকাল সোয়া ৯টায় জ্বর ও মাথাব্যথা নিয়ে ওই নারীকে হাসপাতালের নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ওয়ার্ডে নেওয়ার পর ওই নারীর হৃদস্পন্দন না পেয়ে কর্তব্যরত নার্সরা জরুরি বিভাগে জানান। চিকিৎসক পরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনদের মরদেহ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। পরে বাড়িতে গিয়ে মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তার সাথে সংস্পর্শে থাকা চার পরিবারের সাত জনকে হোম কোয়াটেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাটোরে জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে একজনের মৃত্যু
জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে নাটোরে এক প্রৌঢ় মারা গেছেন। তার করোনাভাইরাস ছিল কিনা, জানতে নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

শুক্রবার দিবাগত রাতে অসুস্থ অবস্থায় নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান। মৃতদেহের নমুনা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। তবে, সেখানে কোনো লকডাউনের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান।

মৌলভীবাজারে করোনার লক্ষণ নিয়ে মৃত্যু
মৌলভীবাজারের রাজনগরে করোনার উপসর্গ নিয়ে ৪৫ বছরের একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর নমুনা সংগ্রহ করে মৃতের পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার বিকেলের দিকে র‌্যাপিড রেসপন্স টিমের সদস্যরা মৃত ব্যক্তি ও স্ত্রীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন অফিসে পাঠিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ঊর্মি রায় বলেন, ওই ব্যক্তির মাঝে কিছু লক্ষণ ছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর সন্দেহের সৃষ্টি হওয়ায়, নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার পরিবারকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।