করোনা আতঙ্কে ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল, পথেই মারা গেল গার্মেন্টকর্মী

শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০

ঢাকা : মুমূর্ষু অবস্থায় নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক গার্মেন্টকর্মীকে ভর্তি না করায় ফিরিয়ে নেয়ার পথে মারা গেছেন তিনি। করোনা আতঙ্কে চিকিৎসকরা বাবুলের (৪৭) চিকিৎসা না করায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। গত বুধবার পৌর এলাকার পূর্বমালনীতে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে তার গ্রামের বাড়ি পূর্বধলা উপজেলার নারায়ন ডহর এলাকায় নিয়ে যান স্বজনরা। তিনি অস্থায়ীভাবে শ্বশুরালয়ে বসবাস করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বাবুল গত ২ মাস আগে ঢাকা থেকে চলে এসে পৌর এলাকার পূর্বমালনীতে তার শ্বশুরালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি একটি অটো রাইস মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ নেন। গত বুধবার ভোরে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন বলে জানান স্বজনরা। পরে স্বজনরা তাকে স্থানীয় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ ওই রোগীকে কোন রকম চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেন।

এদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে এমন গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওইদিন বেলা ১১টার দিকে মালনী আমগাছ তলা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রায় মুসল্লি শূন্য অবস্থায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ভয়ে লাশের ধারে কাছে কেউ যেতে চাননি। কয়েকজন নিকাত্মীয় কোনোরকম জানাজা দিয়ে লাশ নিয়ে দ্রুত গ্রামের বাড়ি নারায়ন ডহর নিয়ে চলে যান। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফখরুজ্জামান জুয়েল সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিটি করোনা রোগী ছিলেন না। আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. টিটু রায় জানান, ডাক্তারদের ডিউটি তো শিফটিং, তাই বলা যাচ্ছে না কে ছিলেন সেই সময়। আর রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছিল কিনা জানতে হবে।