দেশে আজও আইসোলেশনে ৫ ও জ্বর-সর্দিতে ৮ জনের মৃত্যু

বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২০

নিউজ ডেস্ক: করোনা ভাইরাস সন্দেহে আইসোলেশনে ভর্তি থাকা অবস্থায় সারা দেশের অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ২ জন রয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, বগুড়া ও শরীয়তপুরে একজন করে আইসোলেশনে ভর্তি অবস্থায় মারা গেছেন।

ঢামেকের আইসোলেশনে ২ জনের মৃত্যু, নমুনা আইইডিসিআরে
জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে ভর্তির পরই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা গেছেন দুই ব্যক্তি। তাদের করোনা ভাইরাস সন্দেহ থাকায় রক্তের নমুনা জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী পরিচালক (অর্থ) ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ।

তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সর্দি কাশি উপসর্গ নিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই দিন রাতেই একজন মারা যান। আর অন্যজন বুধবার সকালে মারা যান।

তিনি আরও বলেন, তাদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। রক্তের নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। নেগেটিভ আসলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে। আর পজেটিভ আসলে বিধি অনুযায়ী দাফন করা হবে।

চট্টগ্রামে আইসোলেশনে থাকা আরও এক যুবকের মৃত্যু
করোনা ভাইরাস সন্দেহে আইসোলেশনে ভর্তি থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে এ যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ।

তিনি বলেন, গতকাল রাতে জ্বর, কাশি ও শাসকষ্টজনিত রোগ নিয়ে এক যুবক জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই যুবকের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার শরীর করোনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এর আগে এ যুবককে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ফৌজদারহাটে বিআইটিআইডি’তে আইসোলেশনে থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়। তবে ওই নারী শরীরে করোনা সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

বগুড়ায় আইসোলেশনে থাকা কিশোরের মৃত্যু
বগুড়ার করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সপ্তাহখানেক ধরে পায়ের ব্যথায় ভুগতে থাকা শিশুটি তিন দিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল।

বুধবার সকালে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে দুপুরে তাকে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় সে মারা যায় ।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, যেহেতু করোনার উপসর্গ থাকার কারণে শিশুটিকে আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়েছিল, তাই তার দাফনের প্রক্রিয়াও সংক্রামক ব্যাধির অনুযায়ী করা হবে। পাশাপাশি ওই শিশুটির বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান তিনি।

শরীয়তপুরে আইসোলেশনে থাকা যুব‌কের মৃত্যু
করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আইসোলেশনে ভর্তি থাকা ৩৪ বছ‌রের এক যুব‌কের মৃত্যু হ‌য়ে‌ছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৯টার দি‌কে তার মৃত্যু হয়। ওই যুব‌কের বা‌ড়ি ন‌ড়িয়া উপ‌জেলায়। তি‌নি পেশায় শ্রমিক ছিলেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. এস.এম. আবদুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, ওই ব্য‌ক্তির নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর’এ পাঠানো হয়েছে। আইইডিসিআর থেকে ফলাফল পেতে দুই দিন সময় লাগতে পারে। তার পরিবার যে জায়গায় দাফন করতে চায়, স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে সেখানেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মীরা লাশ দাফন করে আসবেন বলে জানান তিনি।

ন‌ড়িয়া উপ‌জেলা সহকারী ক‌মিশনার (ভূ‌মি) মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির আশপা‌শের পাঁচ‌টি বাড়ি লকডাউন ক‌রে‌ছে উপ‌জেলা প্রশাসন।

এদিকে করোনার উপসর্গ জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়, ফেনী সদর উপজেলায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, নড়াইল সদর হাসপাতালে, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় এবং পাবনায় একজন করে মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ও বুধবার (১ এপ্রিল) সারাদিনে এসব রোগী মারা যান। তবে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের করোনায় মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি নাকচ করেছে। কয়েক জনের মৃত্যু নিশ্চিত হতে রক্তের নমুনা জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন।