করোনায় মধ্যবয়সীদের মৃত্যুঝুঁকিও কম নয়: গবেষণা

বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকি বয়স্ক ব্যক্তিরা। কথাটি শোনা যাচ্ছে একেবারে শুরু থেকেই। বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠা করোনা ভাইরাসে এখন সব দেশের সব বয়সী মানুষই দিশেহারা। কী করবে, কোথায় যাবে, কীভাবে নিরাপদে থাকবে- এ নিয়ে পৃথিবী নামের এই গ্রহটি এখন মহাদুঃশ্চিন্তায় পড়েছ। কোথাও কোনও কূল না পেয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানুষের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর মৃত্যুঝুঁকি।

শিশু ও বয়স্করা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বেশি ঝুঁকিতে আছে। কারণ শিশু ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম। এছাড়াও যাদের হার্টে সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনিতে সমস্যা রয়েছে তারাও আছেন অতিরিক্ত ঝুঁকিতে।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে তরুণদের স্বস্তিতে থাকার কোনও কারণ নেই। কারণ করোনায় মৃত্যুঝুঁকি শুধু শিশু কিংবা বয়স্কদেরই নয়- তরুণেরাও করোনায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এবার চীনের ৭০ হাজারেরও বেশি রোগীর তথ্য নিয়ে করা এক গবেষণার ফল প্রকাশ করেছে বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট। সেই গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাসে শুধু বয়স্ক ব্যক্তিরাই নয়, মৃত্যুঝুঁকিতে আছেন মধ্যবয়সীরাও।

সেই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত চীনের মূল ভূখণ্ডে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং যাদের রোগ চিহ্নিত করা হয়নি- এই তিন শ্রেণির লোকদের নিয়ে এ গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চীনে করোনা সনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে গড়ে মারা গেছেন ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। তবে বয়সের ভিত্তিতে মৃত্যুহারের পার্থক্য অনেক। যেখানে ১০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ০০১৬ শতাংশ, সেখানে ৮০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। ৮০ কিংবা তারচেয়েও বেশি বয়সীদের মধ্যে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্য থেকে ১৮ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

সেক্ষেত্রে মধ্যবয়সীদের মধ্যে এই হার খুবই কম। ল্যানসেট-এর গবেষণা প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ আক্রান্তকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৫০-৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৮ ভাগ।

এ বিষয়ে গবেষণা নিবন্ধের সহ-লেখক এজরা ঘানি বলেছেন, ‘যেকোনও দেশ আমাদের এ গবেষণা কাজে লাগিয়ে করোনা মোকাবিলায় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তবে এটা পরিষ্কার যে, পঞ্চাশ কিংবা তারও বেশি বয়সীদের তুলনামূলকভাবে কম বয়সীদের চেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার বেশি প্রয়োজন পড়ে। পঞ্চাশোর্ধদের মৃত্যুহারও তরুণদের চেয়ে বেশি।’

উল্লেখ্য, বিশ্বে এখন করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৩২ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৪২ হাজার ৩২২ জনের। মোট সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ১০১ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৭৮ জন, আর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে ১২ হাজার ৪২৮ জন। এছাড়া স্পেনে ৮,৪৬৪, জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৪,০৫৪ জন, ফ্রান্সে ৩,৫২৩ জন, চীনে ৩,৩০৫ জন, ইরানে ২,৮৯৮ জন, যুক্তরাজ্যে ১,৭৮৯ জন ও নেদারল্যান্ডে ১,০৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।