করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুন, ইরানের বিরুদ্ধে নয়: ট্রাম্পকে তেহরান

বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে যখন করোনা পরিস্থিতি দিনকে দিন ভয়াবহ হচ্ছে ঠিক তখনও ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। বলা হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বারবার বলছে, ইরান চুক্তি ভঙ্গ করে পরামাণু অস্ত্র বানাচ্ছে, এমন কোনও প্রমাণ নেই।

এরপরও একগুয়ে নীতিতে অটল যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প প্রশাসনকে ইঙ্গিত করে কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ।

ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপাতত করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যান। আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এটা সঠিক সময় নয় আপনার জন্য।’

সম্প্রতি রুশ দৈনিক কোমারসান্ট-এ লিখা এক কলামে ট্রাম্পের প্রতি এমন আহ্বান জানান ডক্টর মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ।

সেখানে তিনি লিখেছেন- ‘বসে বসে মার্কিন সরকারের মোড়লিপনা দেখার দিন শেষ হয়ে গেছে। এতে তিনি ট্রাম্প সরকারের অর্থনৈতিক সন্ত্রাস এবং স্বাস্থ্য ও ওষুধ নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার প্রবন্ধে আরও লিখেন, ‘বিশ্ব সমাজের পক্ষ থেকে ইরান-বিরোধী অন্যায় ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞাগুলোর বিরোধিতা জাগ্রত বিবেকের জন্য একটা পরীক্ষা। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের চরম দৃষ্টান্ত।’

মার্কিন সরকারের এই নোংরামি তুলে ধরতে গণমাধ্যম তথা সব প্রচারমাধ্যম ব্যবহারের কূটনীতিকে ব্যবহার করাসহ নানামুখি কৌশল কাজে লাগানো জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

ডক্টর মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ বলেন, ‘চলমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান ও বিশ্ব-সমাজের পারস্পরিক সহযোগিতা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

গোটা বিশ্বে এখন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৯ লাখের কাছাকাছি। মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ মানুষ।

এদিকে কদিন আগেই ইরানের ওপর দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে ‘অমানবিক’ বলেছে রাশিয়া। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে জাতিসংঘ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাপ থাকা সত্ত্বেও হোয়াইট হাউজ তাতে কর্ণপাত করছে না। উল্টো নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে জানিয়ে সম্প্রতি তেহরানের ওপর বেশ কয়েকটি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের মে মাসে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা চুক্তির বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্রকে সে চুক্তি থেকে এরতরফাভাবে সরিয়ে নেন ট্রাম্প। এর প্রায় এক বছর পরই ২০১৯ সালের মে মাসের দিকে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে আংশিকভাবে সরে আসার ইঙ্গিত দেয় ইরান।

২০১৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বিশ্বের শক্তিধর ৬ জাতিগোষ্ঠী। ভিয়েনায় নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকারণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সীমিত রাখতে সম্মত হয়েছিল ইরান।