করোনায় প্রথম মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যু

মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনা ভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে প্রথম এক মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই সেনা নিউজার্সি আর্মি ন্যাশনাল গার্ডসম্যানের সদস্য ছিলেন। সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন এ খবর জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

নিহত সেনার নাম ডগলাস লিন হিকক বলে জানিয়েছে নিউজার্সি ন্যাশনাল গার্ড। তিনি কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২১ মার্চ তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তার মৃত্যু হয়।

দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের একজন সৈন্য মারা যাওয়া মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি বেদনাদায়ক দিন। করোনায় প্রথমবারের মতো আমরা কোনো মার্কিন সেনাসদস্যকে হারালাম।

তিনি আরও বলেন, এটি আমাদের সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ক্ষতি। নিহতের পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের প্রতি আমরা শোক ও সহানুভূতি জানাচ্ছি।

পেন্টাগন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের ৫৬৪ সেনাসদস্য কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে করোনা ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেশটির ১ লাখ ৬৪ হাজার ২৫৩ জন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। আর মারা গেছে ৩ হাজার ১৬৫ জন মানুষ।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। একইসঙ্গে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৮১৫। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩ হাজার ৭১৬ জন।

এই ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৭ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬১ হাজার ৫০ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৫ লাখ ৮২ হাজার ৩৫৫ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৫২ হাজার ৮৬৭ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ২৯ হাজার ৪৮৮ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।

করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ইতালি। ইতালিতে মৃতের সংখ্যা দিন দিন বাড়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে মারা গেছেন ১১ হাজার ৫৯১ জন। ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি স্থান চীনকেও পেছনে ফেলেছে স্পেন। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ৭১৬ জন। চীনে ৩ হাজার ৩০৫ ফ্রান্সে ৩ হাজার ২৪ জন। ইরানে ২ হাজার ৭৫৭ জন। যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৪০৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।