করোনার দুঃসংবাদে ঢাকার বাতাসে সুখবর

মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০

পরিবেশ ডেস্ক: বিশ্ব কাঁপছে এখন করোনা আতঙ্কে। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই ভাইরাসটি ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্বের গোটা চিকিৎসাবিজ্ঞানকে। দেশে দেশে মৃত্যুর সারি দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিদিন। বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। এ থেকে মন্ত্রী-এমপি, রাজা-মহারাজা কিংবা নামিদামি তারকারাও রেহাই পাচ্ছেন না। বাংলাদেশেও সরকারি হিসেবে, প্রায় অর্ধশত লোক এক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৫ জন। বিশ্বে মৃত্যু ৩৮ হাজার ছুঁই ছুঁই। করোনা নিয়ে চারিদিকে যখন দুঃসংবাদের মহড়া তখন বাতাস দিয়ে গেলো খানিক সুখবর।

বায়ুদূষণে গত ২১ মার্চও শীর্ষে ছিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দূষণমুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ উন্নতি করে ঢাকার অবস্থান এখন ২৩ নম্বরে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ারের প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। যেখানে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণে ২৩ ধাপ উন্নতি করেছে ঢাকার বাতাস।

পরিবেশবিদরা বলছেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকাংশে ফাঁকা। নেই যানবাহনের চাপ, শিল্প ও কলকারখানা বন্ধ, নির্মাণ কাজ থেমে গেছে। আর এটাই মাত্র ৭-৮ দিনের ব্যবধানে ঢাকার বাতাসের মানকে উন্নত করেছে। বাতাসে দূষণ কমে গেছে বহুগুণ।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ গবেষক ড. আবদুস সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন সব কর্মস্থল বন্ধ। তাই বাতাসের মানও ভালো হয়েছে। সাধারণ চারটি কারণে বায়ুদূষণ হয়। এগুলো হচ্ছে- যানবাহন, বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ইটভাটা। এর সবগুলোই এখন থেমে আছে। এই সাধারণ ছুটি শেষ হলে ঢাকায় বাতাসের মানের আবারও চরম অবনতি হবে।’

তবে এ নিয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে পারলে ঢাকাবাসীর পক্ষেও মানসম্মত বায়ু পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন ড. সালাম।

গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে। রাস্তাঘাটেও মানুষের চলাচল নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় একিউএয়ারের লাইভ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে বিকেল ৩টায় দূষণের দিক থেকে বিশ্বে ঢাকার অবস্থান ছিল ২৯ নম্বরে। শেষ বিকেলে যানবাহন চলাচল বাড়লে বিকেল ৫টা নাগাদ ইনডেক্সে ঢাকার অবস্থান নেমে ২৫ ও সন্ধ্যা ৭টার দিকে হয় ২৩।

বায়ুদূষণ নিয়ে পরিবেশবিজ্ঞানী ও গবেষকরা মনে করেন, ধুলোবালি বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। এছাড়াও অপরিকল্পিত-অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ, মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযান ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ভারি ধাতু ধুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার বাতাসে পাওয়া ধুলোয় সিসা, ক্যাডমিয়াম, দস্তা, ক্রোমিয়াম, নিকেল, আর্সেনিক, ম্যাঙ্গানিজ ও কপারের সর্বোচ্চ মাত্রায় উপস্থিতি পাওয়া যায়। এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা খুব সহজেই মানুষের ত্বকের সংস্পর্শে আসছে। অথচ ১০ দিনের সাধারণ ছুটিতে সবকিছু বন্ধ থাকায় ২৩ ধাপ উন্নতি হয়েছে ঢাকা শহরের।

করোনা ভাইরাসের এই মহামারির দিনে মৃত্যু যখন মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে তখন এরকম সুখবর নিশ্চিতভাবেই মানুষকে, অন্তত ঢাকাবাসীকে খানিক স্বস্তি দেবে।