করোনার আতঙ্কের মধ্যে হামের প্রকোপ, আক্রান্ত দেড় শতাধিক শিশু

মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০

ঢাকা : করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যে পাহাড়ে হাম রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দূর্গম এগারো গ্রামে নতুন করে আরও দেড় শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এর আগে মার্চ মাসে উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী তিনটি গ্রাম অরুনপাড়া, নিউথাং পাড়া এবং হাইচপাড়ায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এতে আক্রান্ত হয় প্রায় ১১৯ জন শিশু।

এসময় হাম রোগে মৃত্যু হয় ৮ শিশুর। পরে ২৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫ শিশুকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন, সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র সদস্যরা। বর্তমানে ঐ এলাকার মানুষ গুলো করোনা ভাইরাস ও হাম রোগের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা ।

তিনি জানান, তার ইউনিয়নের ছয়টি হামে আক্রান্ত শিশুদের টিকা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক দল কাজ শুরু করেছে। সাজেকে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ফেব্রুয়ারিতে। বাঘাইছড়ি উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম এই ইউনিয়নের তুইচুই ও শিয়ালদাহসহ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে রোগটি ছড়ায় মহামারী আকারে। এতে এক মাসের আট শিশু মারা গেছে।

আক্রান্ত নতুন গ্রামগুলো হচ্ছে,সাজেক ইউনিয়নের ভুয়াছড়ি, কজইতলী,কজইছড়ি, শিলছড়ি, লাম্বাবাক, তালকুম্বা, বেতবুনিয়া, শীব পাড়া, বড়ইতলী, সাত নং পাড়া, ডেবাছড়া ও উজানছড়ি ।

আক্রান্ত এলাকার সাতনং পাড়ার কার্বারী দয়াল ত্রিপুরা জানান, গত ২দিন থেকে এলাকায় ১৬ জন হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এরা সকলই ১ থেকে ৮ বছরের শিশু। এর মধ্যে একই পরিবারের আক্রান্ত আছে চারজন। এরা হলেন, রনিতা (১),মাতই (৩),মল্লিকা (৪),অকুল (২)।

আক্রান্তদের মা প্রতিমালার সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে চার জনের শরীরে হঠাৎ জ্বর উঠে। এরপর রাতে তাদের শরীরের লাল হয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ ইফতেখার আহমেদ জানান, আগে থেকেই সেখানে দুইটি মেডিকেল টিম কাজ করছেন এবং নতুন আক্রান্তের খবর পেয়ে ডাঃ বিষ্ণুপদ দেব নাথ এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আরও একটি চিকিৎসক দল পাঠিয়েছেন। আক্রান্ত শিশুদের পুরোদমে চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির দিকে যাবে। তিনি আরও জানান, হাম রোগে ৮ শিশু মারা যাওয়ার পর একটি চিকিৎসক দল যায় আক্রান্ত এলাকায়। পরে অরুণপাড়াসহ পাঁচটি গ্রামে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও সেবা দেয়া হয়। আক্রান্ত শিশুদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে, ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরীক্ষাগারে। পরীক্ষায় হাম সনাক্ত হয়।

জানা গেছে, চলতি মাসের ২৫ মার্চ থেকে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ সমন্বয়ে ২টি মেডিকেল টিম এ রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে শুরু থেকে কাজ করে যাচ্ছে। তবে ডাক্তারদের অভিমত, কুসংস্কার এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে এসব জনপদের মানুষের শিশুরা টিকা নিতে অনীহা প্রকাশ করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ওই এলাকাগুলোর সাথে উপজেলা সদরের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অসচেতনতা এবং এলাকাগুলো দূর্গম হওয়ার কারণে যথাসময়ে চিকিৎসা সেবা দিতে ডাক্তারদের বেশ বেগ পেতে হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।